১৩ বছরের নরকযন্ত্রণা শেষ! সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ‘নিষ্কৃতিমৃত্যু’, চোখের জলে বিদায় হরীশ রানাকেশিরোনাম

দীর্ঘ ১৩ বছর বিছানায় নিথর পড়ে থাকা, কথা বলতে না পারা, কাউকে চিনতে না পারা— এক জীবন্ত লাশের মতো বেঁচে থাকার অবসান ঘটল হরীশ রানার। বুধবার সকালে দিল্লির গ্রিন পার্ক শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। ভারতের বিচারবিভাগীয় ইতিহাসে হরীশ রানা এক অবিস্মরণীয় নাম হয়ে রইলেন, কারণ তিনিই দেশের প্রথম ব্যক্তি যিনি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নিষ্কৃতিমৃত্যুর (Euthanasia) অনুমতি পেলেন।

হরীশের শেষযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন তাঁর পরিবারের সদস্য, বন্ধু এবং উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অজয় রাই। হরীশের ভাই আশিস এবং তাঁর বোন শেষকৃত্যের সমস্ত আচার পালন করেন। তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে ১০ মিনিটের নীরবতা পালন করা হয় এবং সমবেত কণ্ঠে পাঠ করা হয় গায়ত্রী মন্ত্র। গোলাপের পাপড়িতে ঢেকে দেওয়া হয় তাঁর নশ্বর দেহ।

এক করুণ লড়াইয়ের ইতি: ২০১৩ সালের ২০ অগস্ট। চণ্ডীগড়ে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় চারতলার ব্যালকনি থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর চোট পান হরীশ। সেই থেকে ১০০ শতাংশ ‘কোয়াড্রিপ্লেজিক ডিসেবিলিটি’ নিয়ে বিছানায় শয্যাশায়ী ছিলেন তিনি। না পারতেন নড়তে, না পারতেন কথা বলতে। গত ১৩ বছর ধরে কৃত্রিম লাইফ সাপোর্টে তাঁর প্রাণবায়ু টিকিয়ে রাখা হয়েছিল। হরীশের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে তাঁর বাবা-মা কার্যত পথে বসেছিলেন, বিক্রি করতে হয়েছিল মাথার ওপরের ছাদটুকুও। নিজেদের অবর্তমানে ছেলের দেখাশোনা কে করবে, এই দুশ্চিন্তা থেকেই তাঁরা আদালতের কাছে ছেলের নিষ্কৃতিমৃত্যুর আবেদন জানান। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদনে সিলমোহর দেয়।

মৃত্যুর পরেও বেঁচে থাকবেন হরীশ: হরীশ চলে গেলেও তাঁর পরিবারের মহানুভবতা অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শোকাতুর পরিবার হরীশের হার্ট ভালভ এবং কর্নিয়া দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কংগ্রেস নেতা অজয় রাই জানান, হরীশের পরিবারের এই পদক্ষেপ অঙ্গদান সম্পর্কে সমাজে নতুন করে সচেতনতা তৈরি করবে। হরীশের পার্থিব শরীর ছাই হয়ে গেলেও, তাঁর অঙ্গ দিয়ে নতুন জীবন পাবেন অন্য কোনো মানুষ।