‘কার ঘাড়ে বন্দুক রেখে গুলি চালানো হচ্ছে?’ আইএএস-আইপিএস বদলি মামলায় হাইকোর্টে বিষ্ফোরক নির্বাচন কমিশন!

২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের মুখে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে রদবদল নিয়ে এবার আইনি লড়াই তুঙ্গে। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে ডিজি এবং পুলিশ কমিশনার—একযোগে এত হেভিওয়েট আধিকারিককে বদলি এবং ভিনরাজ্যে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। বুধবার সেই মামলার শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু সপাটে জানান, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কমিশন যে কাউকে বদলি করার পূর্ণ অধিকার রাখে। এমনকি এই মামলাটিকে তিনি ‘ছদ্মবেশ’ বলে কটাক্ষ করে দাবি করেন, “কেউ অন্য কারো ঘাড়ে বন্দুক রেখে এই মামলাটি করাচ্ছে।”
অন্যদিকে, তৃণমূলপন্থী আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের এই পদক্ষেপকে তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর প্রশ্ন, “আইনসভা যে নিয়ম তৈরি করেছে, তার বাইরে গিয়ে কমিশন কাজ করতে পারে না। রাত ১২টায় চিঠি দিয়ে মুখ্যসচিব বদল কি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে? সব অভিজ্ঞ আমলাদের যদি ভিনরাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, তবে রাজ্যটা চলবে কী করে?” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, মুখ্যমন্ত্রীর কাজে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাঘাত ঘটানো হচ্ছে। লোকসভা ভোটের সময় কি কেন্দ্রের সচিবদের এভাবে বদল করা হয়? এই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এদিন কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছেন, ঠিক কতজন আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে এবং তাঁদের কোথায় পাঠানো হয়েছে। আগামী শুক্রবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি। কমিশনের দাবি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই কড়া পদক্ষেপ, অন্যদিকে শাসক শিবিরের দাবি—এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই নয়।