‘মমতা শুধু ইদের নমাজ পড়েন, উন্নয়ন করেন না!’ হুমায়ুনকে পাশে বসিয়ে বিষ্ফোরক ওয়েইসি

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে এবার নতুন সমীকরণ। আইএসএফ-এর সঙ্গে অধরা জোট এবার পূর্ণ হলো হুমায়ুন কবীরের ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (AJUP)-র সঙ্গে। বুধবার কলকাতায় এসে ওয়েইসি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বাংলায় এবার একজন শক্তিশালী মুসলিম নেতার প্রয়োজন, আর সেই মুখ হলেন হুমায়ুন কবীর। শুধু তাই নয়, হুমায়ুনকেই জোটের ‘মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী’ হিসেবে ঘোষণা করে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিলেন মিম প্রধান।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করে ওয়েইসি মনে করিয়ে দেন, একসময় মমতা নিজেই সংসদে অনুপ্রবেশ নিয়ে সরব হয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই বাংলায় বিজেপি ৩ থেকে ৭৭ হয়েছে। উনি ইদের নমাজে সামিল হন ঠিকই, কিন্তু মুসলমানদের সার্বিক উন্নয়ন করেননি। বামেরা যে ভুল করেছিল, তৃণমূলও সেই একই ভুল করছে—সংখ্যালঘুদের কেবল ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।” বাবুল সুপ্রিয়র প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন করেন, তৃণমূলে যোগ দিলেই কি পুরনো ‘ঘৃণা ভাষণ’ মুছে যায়?

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বিজেপি ফাণ্ডিং’ অভিযোগের পাল্টা দিয়ে ওয়েইসি রসিকতার ছলে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “যদি প্রমাণ করতে পারেন আমরা বিজেপির টাকা নিচ্ছি, তবে সেই টাকার ৯০ শতাংশ অভিষেককে দিয়ে দেব, ৫ শতাংশ পাবে হুমায়ুন আর বাকি ৫ শতাংশ আমাদের।” এদিন হুমায়ুন কবীরের দলের নির্বাচনী প্রতীক ‘হুইসেল’ (বাঁশি)-এর উন্মোচন করেন তিনি। মালদহ, মুর্শিদাবাদে মিমের ক্রমবর্ধমান শক্তি এবার জোটে ভর করে তৃণমূলের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে দিল।