‘কালী কালী বল রসনা,’ রামপ্রসাদী গানে মজলেন এবার মোদী,জেনেনিন কেন?

বঙ্গ রাজনীতিতে কি এবার ‘রাম’ নামের চেয়েও ‘মা কালী’র মহিমা বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে? খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট। সম্প্রতি নিজের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি বিখ্যাত রামপ্রসাদী গান শেয়ার করে ফের ‘কালী-শরণ’ নিলেন তিনি। শিল্পী সোহিনী মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া সেই শ্যামাসঙ্গীত শেয়ার করে মোদী লিখেছেন, “মায়ের পুজো ভক্তদের মনে নতুন সাহস ও আত্মবিশ্বাস এনে দেয়। তাঁর উপাসনা মানুষকে নতুন শক্তি ও উৎসাহে ভরিয়ে তোলে।”
বিজেপি যেখানে বরাবর ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতে অভ্যস্ত, সেখানে খোদ শীর্ষনেতার এই কালী-ভক্তিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাঁদের মতে, বাঙালির অস্মিতা ও আবেগ স্পর্শ করতেই এই কৌশলী বদল।
‘পরিবর্তন হয়েছে খোদ প্রধানমন্ত্রীরই’
মোদীর এই ‘কালী-প্রেম’ অবশ্য নতুন নয়। গত বছর দুর্গাপুরের সভায় তিনি বারবার ‘জয় মা কালী’ ও ‘জয় মা দুর্গা’ ধ্বনি দিলেও একবারের জন্যও ‘জয় শ্রীরাম’ উচ্চারণ করেননি। তা নিয়ে তৃণমূল কটাক্ষ করে বলেছিল, “বাংলায় পরিবর্তনের ডাক দিতে এসে খোদ প্রধানমন্ত্রীরই পরিবর্তন হয়ে গেল!” এমনকি হাওড়া-গুয়াহাটি বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধনেও তিনি মা কালীর ভূমির সঙ্গে মা কামাখ্যার ভূমির আত্মিক যোগের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন।
देवी मां की आराधना भक्तों में नए आत्मविश्वास का संचार करती है। उनकी साधना हर किसी को एक नई ऊर्जा से भर देती है।https://t.co/Tm6GbcMz5V
— Narendra Modi (@narendramodi) March 25, 2026
অমিত শাহ থেকে ব্রিগেড: লক্ষ্য কি শুধুই বাঙালি ভোট?
শুধু মোদী নন, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যেও এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে:
-
অমিত শাহ: গত মাসে বঙ্গ সফরে এসে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে পুজো দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
-
ব্রিগেড সভা: ব্রিগেডে মোদীর সভামঞ্চ তৈরি হয়েছিল দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে।
-
খোলা চিঠি: বিজেপি-র ‘গৃহ সম্পর্ক অভিযান’-এ সাধারণ মানুষের হাতে যে চিঠি তুলে দেওয়া হচ্ছে, তার শুরুতেই লেখা থাকছে ‘জয় মা কালী’।
পর্যবেক্ষকদের মত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় হিন্দুত্বের তাস খেলতে গিয়ে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিকে তৃণমূল ‘বহিরাগত সংস্কৃতি’ হিসেবে দেগে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। সেই বয়ানকে ভেস্তে দিতেই এখন ঘরের দেবী মা কালী এবং মা দুর্গাকে সামনে রেখে এগোতে চাইছে গেরুয়া শিবির। প্রধানমন্ত্রী বারবার বাংলাকে ‘মা কালীর মাটি’ হিসেবে উল্লেখ করে আসলে সাধারণ বাঙালির ঘরে ঘরে পৌঁছে যাওয়ার রাস্তা খুঁজছেন।