‘১১ জন বিধায়ক দিন, যারা এনকাউন্টার করবে তাদেরও এনকাউন্টার হবে!’ হুঙ্কার এআইএমআইএম নেতার!

উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের আবহেই মীরাটে এক জনসভা থেকে প্ররোচনামূলক মন্তব্য করে বিতর্কের ঝড় তুললেন আসাদুদ্দিন ওয়াইসির দল AIMIM-এর রাজ্য সভাপতি হাজি শওকত আলি। মঙ্গলবার মীরাটের এক জনসভায় তিনি সরাসরি পুলিশ ও প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি কোনো মুসলিম যুবককে এনকাউন্টার করা হয়, তবে যারা সেই এনকাউন্টার করবে, তাদেরও এনকাউন্টার করা হবে।” শওকত আলির এই বিতর্কিত মন্তব্যের ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হতেই উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

‘১১ জন বিধায়ক দিন’—অদ্ভুত প্রতিশ্রুতি শওকত আলি তাঁর বক্তৃতায় সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, “আমাদের ১১১ জন বিধায়কের প্রয়োজন নেই, মাত্র ১১ জন বিধায়ক দিন। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, কোনও মুসলিম যুবককে যদি এনকাউন্টার করা হয়, তবে যে করবে তাকেও আমরা এনকাউন্টার করব।” শুধু তাই নয়, মসজিদ ও মাদ্রাসা রক্ষার দোহাই দিয়ে তিনি ‘এক লাঠি, এক পতাকা, এক নেতা’ স্লোগান তুলে মুসলিম সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন।

বিজেপির পাল্টা ও পুলিশের তৎপরতা মিম নেতার এই মন্তব্যের পর কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, এটি সরাসরি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার হুমকি এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা। অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা জানিয়েছেন, শওকত আলির পুরো বক্তৃতাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উস্কানিমূলক বক্তব্যের দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এনকাউন্টার বিতর্ক ও রাজনীতি উত্তরপ্রদেশে যোগী সরকারের আমলে অপরাধ দমনে পুলিশের এনকাউন্টার নীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব বিরোধীরা। মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশের দাবি, বহু ক্ষেত্রে ‘ফেক এনকাউন্টার’ হচ্ছে। শওকত আলির দাবি, মুসলিম যুবকদের টার্গেট করা হচ্ছে। যদিও পুলিশের পাল্টা যুক্তি—কেবলমাত্র দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সমাজবাদী পার্টি বা কংগ্রেসের মতো দলগুলি মুসলিম নিরাপত্তা নিয়ে সরব হলেও, শওকত আলির এমন ‘এনকাউন্টারের বদলে এনকাউন্টার’ ভাষাকে সমর্থন করেনি।