উত্তরপ্রদেশের ছাত্রকে নৃশংস হত্যা উত্তরাখণ্ডে! ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ৩ সহপাঠী!

উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুন ফের উত্তপ্ত ভিন রাজ্যের ছাত্র হত্যার ঘটনায়। গত বছর ত্রিপুরার এক যুবককে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্যের জেরে পিটিয়ে মারার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বলি হলেন উত্তরপ্রদেশের এক বি.টেক ছাত্র। সোমবার গভীর রাতে প্রেমনগর থানার কেহরি গ্রামে দুই ছাত্রগোষ্ঠীর ‘এলাকা দখল’ ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে প্রাণ হারালেন ২২ বছর বয়সী দিব্যাংশু যাত্রানা। এই ঘটনায় ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত কী? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগরের বাসিন্দা দিব্যাংশু দেরাদুনের একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তেন। কলেজের এলাকা দখল এবং দাদাগিরি নিয়ে দিব্যাংশুর গোষ্ঠীর সঙ্গে অন্য একটি গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল। সোমবার মাঝরাতে সেই পুরনো শত্রুতা চরম আকার ধারণ করে। দিব্যাংশুকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর শুরু করে বিপক্ষ গোষ্ঠী।

পুলিশের গাড়ি ও মৃত্যু খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় প্রেমনগর থানার পুলিশ। গুরুতর জখম দিব্যাংশুকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দুন হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসকরা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত মাঝপথে অ্যাম্বুলেন্স বিকল হয়ে যাওয়ায় পুলিশ নিজেদের সরকারি গাড়িতে করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে চিকিৎসা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় তাঁর।

তদন্ত ও গ্রেফতারি দেরাদুন পুলিশের এসপি সিটি প্রমোদ কুমার জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতরা হল— যুবরাজ কুমার (২০), মধুরা খান্ডেলওয়াল (১৯) ও শিবম শর্মা (২০)। বাকি পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেরাদুনের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির নিরাপত্তা ও ছাত্র সংঘাত নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।