যুদ্ধের আঁচ এবার হেঁশেলে! রান্নার গ্যাস নেই কেন? ৫ মাসের সন্তান কোলে ঘর ছাড়লেন স্ত্রী!

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি কি কেবল তেলের দাম বা ভূ-রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ? উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকি জেলার খাটোলি গ্রামের এক মর্মান্তিক ঘটনা প্রমাণ করে দিল, সুদূর আরবের সংঘাতের আঁচ এসে পড়েছে ভারতের সাধারণ মানুষের হেঁশেলে এবং এমনকি শোয়ার ঘরেও। রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকটের জেরে এক দম্পতির সাজানো সংসার তছনছ হয়ে যাওয়ার খবর সামনে এসেছে। ৫ মাসের সন্তানকে নিয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছেন স্ত্রী।
ঘটনার সূত্রপাত কী? স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাটোলি গ্রামের বাসিন্দা অনিল কুমার গত মঙ্গলবার রাতের ডিউটি সেরে সকাল ৮টা নাগাদ বাড়ি ফেরেন। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী সুমন দেবী এবং ৫ মাসের শিশুসন্তান ছিল। পরিশ্রান্ত অনিল বাড়ি ফিরে খাবার চাইলে সুমন সাফ জানিয়ে দেন, রান্না হয়নি। কারণ, বাড়িতে গ্যাস শেষ। পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার জেরে বর্তমানে ভারতে এলপিজি সিলিন্ডার পেতে যে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে, তা এখন সর্বজনবিদিত। সুমন দেবীর দাবি ছিল, উনুনে রান্না করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়; অনিল গ্যাস এনে দিলে তবেই হাঁড়ি চড়বে।
তর্কাতর্কি থেকে বিচ্ছেদ অনিল বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে চাইলেই চটজলদি সিলিন্ডার পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু স্বামীর কথা মানতে নারাজ স্ত্রী। এই নিয়ে শুরু হয় তুমুল ঝগড়া। ক্ষোভে-অভিমানে না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়েন অনিল। ঘুম ভাঙলে তিনি দেখেন, বাড়ি ফাঁকা। ৫ মাসের সন্তানকে নিয়ে সুমন দেবী নিরুদ্দেশ। আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়েও স্ত্রীর হদিশ পাননি হতভম্ব স্বামী।
থানায় ডায়েরি ও আর্তি অগত্যা প্রধাননগর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছেন অনিল কুমার। নিজের ভুল স্বীকার করে এবং স্ত্রীকে ফিরে আসার অনুরোধ জানিয়ে সমাজ মাধ্যমে একটি আবেগঘন ভিডিও বার্তা দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি আমার হাতে ছিল না, কিন্তু ঝগড়া করাটা ভুল হয়েছে।” পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি সংকট ভারতের প্রতিটি পরিবারে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু তার জেরে একটি আস্ত সংসার এভাবে ভেঙে যাবে, তা ভাবতেও পারেনি কেউ। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।