৪৮ বছর পর খুলছে পুরীর রহস্যময় ‘রত্ন ভাণ্ডার’! ভেতরে কী আছে? কাঁপছে গোটা দেশ!

৪৮ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে খুলছে ওড়িশার পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্যে ঘেরা ‘রত্ন ভাণ্ডার’। বুধবার, ২৫ মার্চ থেকেই শুরু হচ্ছে রত্ন গণনা ও তালিকা তৈরির ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া। ১৯৭৮ সালের পর এই প্রথম শ্রী জগন্নাথ মন্দির প্রশাসন (SJTA) মহাপ্রভুর অলঙ্কার ও ধনসম্পদের হিসাব নিতে চলেছে। বুধবার দুপুর ১২টা ১২ মিনিট থেকে ১টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে শুভক্ষণে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
গুপ্তধনের পাহাড়: কী আছে ভেতরে? শেষবার ১৯৭৮ সালে যখন রত্ন ভাণ্ডার খোলা হয়েছিল, তখন তালিকা তৈরি করতে সময় লেগেছিল টানা ৭২ দিন। সেই সময়কার হিসাব অনুযায়ী, ভাণ্ডারে ৪৫৪টি সোনার সামগ্রী (ওজন ১২৮.৩৮ কেজি) এবং ২৯৩টি রুপোর সামগ্রী (ওজন ২২১.৫৩ কেজি) ছিল। এছাড়া হীরা, জহরত ও দুর্লভ রত্ন তো রয়েছেই। ৪৮ বছর পর এই সম্পদের পরিমাণ এবং বর্তমান অবস্থা কী, তা জানতেই দেশজুড়ে চরম কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় স্বচ্ছ গণনা এবারের গণনা হবে আধুনিক প্রযুক্তিতে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)-এর পদস্থ কর্তা, স্বর্ণকার এবং রত্ন বিশেষজ্ঞদের একটি দল এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন। প্রতিটি গয়নার ডিজিটাল রেকর্ডিং, হাই-রেজোলিউশন ফটোগ্রাফি এবং ভিডিয়োগ্রাফি করা হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি দুটি ধাপে সম্পন্ন হবে—প্রথমে ‘বাহার ভাণ্ডার’ এবং পরে ‘ভিতর ভাণ্ডার’। প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বনাথ রথের নেতৃত্বাধীন কমিটি পুরো বিষয়টি তদারকি করবে।
ভক্তদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা রত্ন গণনা চলাকালীন ভক্তদের জগন্নাথ দর্শনে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। ভিড় সামলাতে বসানো হচ্ছে অতিরিক্ত ব্যারিকেড। তবে সুরক্ষার স্বার্থে কিছু সময়ের জন্য ভক্তদের সীমিত দূরত্ব থেকে দর্শন করতে হতে পারে। উল্লেখ্য, ভক্তদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে শনি ও রবিবার এবং উৎসবের দিনগুলোতে গণনার কাজ বন্ধ রাখা হবে। শতাব্দীর এই বিরলতম ঘটনার সাক্ষী হতে এখন মুখিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্বের জগন্নাথ ভক্তরা।