শিলিগুড়িতে নাবালিকার রহস্যমৃত্যু! ভোট প্রচার ছেড়ে আম্বেদকর মূর্তির নিচে ধরনায় শঙ্কর ঘোষ!

ভোটের বাদ্যি বাজলেও শোক আর ক্ষোভে স্তব্ধ শিলিগুড়ি। এক ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার উত্তাল হয়ে উঠল উত্তরবঙ্গের এই প্রধান শহর। প্রেমঘটিত টানাপড়েন ও প্রতারণার অভিযোগে নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনায় রাজনীতির ময়দান ছেড়ে এখন বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন হেভিওয়েট প্রার্থীরা। একদিকে বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ প্রচার বন্ধ করে ধরনায় বসেছেন, অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী তথা মেয়র গৌতম দেব নিহতের বাড়িতে গিয়ে পুলিশকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনার নেপথ্যে কী? শিলিগুড়ি পুরনিগমের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুলিপট্টি এলাকার বাসিন্দা ওই কিশোরীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় সোমবার। পরিবারের অভিযোগ, এক বিবাহিত গৃহশিক্ষক আমির আলির সঙ্গে ওই নাবালিকার সম্পর্ক ছিল। ওই শিক্ষকের স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও সে কিশোরীকে প্রেমের জালে ফাঁসায়। বিয়ের প্রস্তাব দিতেই শুরু হয় বিবাদ ও মানসিক নির্যাতন। অভিযোগ, সেই প্রতারণা সহ্য করতে না পেরেই চরম পথ বেছে নিয়েছে দশম শ্রেণীর ওই ছাত্রী।
শঙ্কর ঘোষের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার সকালে শিলিগুড়ি জংশন এলাকায় আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে দলীয় কর্মীদের নিয়ে ধরনায় বসেন বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ। তিনি ঘোষণা করেন, “যতক্ষণ না মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার হচ্ছে এবং পরিবার ন্যায়বিচার পাচ্ছে, ততক্ষণ আমি সমস্ত নির্বাচনী প্রচার ও জনসংযোগ কর্মসূচি বন্ধ রাখব।” ভোটের মুখে প্রার্থীর এমন অবস্থানে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
পুলিশকে মেয়রের ফোন ও আশ্বাস বিকেলে নিহতের বাড়িতে পৌঁছান শিলিগুড়ির মেয়র তথা তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব। শোকাতুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরি পুলিশ কমিশনারকে ফোন করেন। গৌতম দেব বলেন, “আমি এখানে রাজনীতি করতে আসিনি, শহরের অভিভাবক হিসেবে এসেছি। দু’জন গ্রেফতার হলেও মূল অভিযুক্ত এখনও পলাতক। পুলিশকে বলেছি দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করতে।”
উত্তাল প্রধাননগর, মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনী এদিন মৃতার বাড়ি থেকে এসডিও অফিস পর্যন্ত বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে চড়াও হয়ে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রধাননগর থানার পুলিশের পাশাপাশি এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ও তার পরিবার বর্তমানে পলাতক। শিলিগুড়ির এই ঘটনায় নারী নিরাপত্তা ও গৃহশিক্ষকদের নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।