ইরান যুদ্ধের মধ্যে প্রথমবার, ট্রাম্পকে ফোন মোদীর, জেনেনিন কী কথা হল?

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাত যখন চরম সীমায়, ঠিক তখনই বিশ্ব রাজনীতিতে বড় খবর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর—যেখানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে—এই প্রথম দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হলো। ফোনালাপের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বিশ্বের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ‘হরমুজ প্রণালী’

কেন এই হরমুজ প্রণালী নিয়ে এত চিন্তা? বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় এই সরু সামুদ্রিক পথ দিয়ে। যুদ্ধের জেরে ইরান এই পথ কার্যত বন্ধ রাখায় বিশ্বজুড়ে তেলের জোগানে টান পড়েছে এবং দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অশোধিত তেল আমদানিকারী দেশ হওয়ায় এই জট কাটানো নয়াদিল্লির জন্য অত্যন্ত জরুরি।

ট্রাম্প-মোদী আলোচনার নির্যাস: ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর জানিয়েছেন, দুই রাষ্ট্রপ্রধানই হরমুজ প্রণালীকে সুরক্ষিত ও খোলা রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, ভারত দ্রুত শান্তি ফেরানোর পক্ষে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই আন্তর্জাতিক জলপথে কোনও বাধা বা হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ভারতের মাস্টারস্ট্রোক: মস্কো থেকে ওয়াশিংটন—সবার সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রেখে ভারত নিজের স্বার্থ রক্ষায় তৎপর। মোদী ইতিপূর্বেই ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলে ভারতীয় তেলের ট্যাঙ্কারগুলির নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করেছেন। ইতিমধ্যেই কিছু ভারতীয় জাহাজ হরমুজ হয়ে নিরাপদে দেশে ফিরেছে।

আন্তর্জাতিক চাপ ও অনিশ্চয়তা: ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ন্যাটো (NATO) দেশগুলিকে হরমুজ রক্ষায় যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ইউরোপের দেশগুলি এবং চিন এই বিষয়ে এখনও ধরি মাছ না ছুঁই পানি নীতি নিয়ে চলছে। ফলে এক মাস হতে চলা এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ব অর্থনীতির চাবিকাঠি এখন ঝুলে রয়েছে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির ওপর।

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মোদী-ট্রাম্পের এই ফোনালাপ কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং তেলের বাজারের আগুন নেভানোর এক বড় ইঙ্গিত।