“নন্দীগ্রামের বিডিও ভবানীপুরে!”-‘গদ্দারের লোক’ ঢুকিয়েছে কমিশন, বিস্ফোরক মমতা

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের এপিসেন্টার এখন দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার এই কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে দুই হেভিওয়েটের বাদানুবাদে রাজ্য রাজনীতির পারদ চড়ল কয়েক গুণ। কমিশনের নিরপেক্ষতা থেকে শুরু করে অফিসার বদল— তপ্ত ভবানীপুরে চলল একের পর এক আক্রমণ ও পালটা আক্রমণ।
মমতার তোপ: ‘কমিশন কি নিরপেক্ষ?’ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনিক আধিকারিকদের বদলি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামের বিডিও-কে ভবানীপুরে আনা হয়েছে কারণ সে ‘গদ্দারের’ নিজের লোক।” শুধু তাই নয়, ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসার (RO) এবং মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবের মতো শীর্ষ কর্তাদের বদলি বা রাজ্যের বাইরে পাঠানো নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। মমতার দাবি, কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না।
শুভেন্দুর পালটা: ‘কাঁচের ঘরে বসে ঢিল ছুঁড়বেন না’ মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের জবাব দিতে দেরি করেননি শুভেন্দু অধিকারীও। বিজেপি দফতরে পাল্টা সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, যে অফিসারদের বদলি করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৮০ শতাংশই মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বা মন্ত্রীদের পিএস (PS) হিসেবে কাজ করেছেন। শুভেন্দুর সরাসরি কটাক্ষ, “মমতা ব্যানার্জির এত ভয় কেন? নিজের বাড়ি, নিজের জায়গায় যেখানে ৪০ বছর রাজনীতি করছেন বলেন, সেখানে হারের আতঙ্ক থেকে এসব বলছেন। ভবানীপুর বিজেপির জায়গা, তথাগত রায় এখান থেকে লিড দিয়েছিলেন। মমতা আর ভোট চুরি করতে পারবেন না।”
সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু ভবানীপুর: ভোট যত এগোচ্ছে, ভবানীপুরের লড়াই ততটাই ব্যক্তিগত আক্রমণের স্তরে পৌঁছে যাচ্ছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন নিজের দুর্গ রক্ষার লড়াইয়ে প্রশাসনকে কাঠগড়ায় তুলছেন, তখন শুভেন্দু অধিকারীর লক্ষ্য ‘নন্দীগ্রাম মডেল’ পুনরায় প্রয়োগ করে খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর ঘরের মাঠে পরাজিত করা।