সোনাপুকুরে হানা দিয়ে পুলিশের বড় সাফল্য, ভোট লুঠের ছক বানচাল? পলাতক মজিবুর!

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই ফের অগ্নিগর্ভ উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া। রেজিনগরের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার হাড়োয়ার সোনাপুকুর-শংকরপুর পঞ্চায়েত এলাকায় মিলল ব্যারেল ভর্তি ২২টি তাজা বোমা। শুধু বোমাই নয়, অভিযুক্তের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির মশলা এবং কাঁচামাল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাড়োয়ার ন’পাড়া এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মায়ের বয়ানে শিউরে উঠছে গ্রাম এই ঘটনার সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর মোড় হলো অভিযুক্ত মজিবুর মোল্লার মায়ের স্বীকারোক্তি। মজিবুরের বৃদ্ধা মা মিনধন বিবি সংবাদমাধ্যমের সামনে অকপটে জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে দীর্ঘ দিন ধরেই এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, “অর্ডার পেলেই ছেলে বোমা তৈরি করে দিত। একজনের জন্য এই বোমাগুলো বানিয়ে বাড়িতে মজুত করে রেখেছিল। তাকে বারবার বলা হয়েছিল বোমাগুলো নিয়ে যেতে, কিন্তু তার আগেই পুলিশ চলে এল।” তবে এই মারণাস্ত্র কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
পুলিশি অভিযান ও পলাতক অভিযুক্ত গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার হাড়োয়া থানার পুলিশ মজিবুরের বাড়িতে হানা দেয়। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই মজিবুর এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়। ঘর তল্লাশি করতেই বেরিয়ে আসে ২২টি শক্তিশালী তাজা বোমা এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম। বসিরহাট জেলা পুলিশের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, “কী উদ্দেশ্যে এবং কার নির্দেশে এই বোমা মজুত করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বম্ব স্কোয়াডকে খবর দেওয়া হয়েছে বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করার জন্য।”
হাড়োয়ায় চেনা আতঙ্ক হাড়োয়া বিধানসভা এলাকা বরাবরই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ভোট এলেই এই এলাকায় বোমাবাজি আর হিংসা ‘জলভাত’ হয়ে দাঁড়ায় বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বিবি জানান, “প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে এত বোমা উদ্ধার হওয়ায় আমরা চরম আতঙ্কে আছি। ভোটের সময় কী হবে জানি না।” পুলিশের সক্রিয়তায় মাঝে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও, ভোটের মুখে এই বিপুল অস্ত্র উদ্ধার প্রমাণ করে দিচ্ছে যে তলে তলে বড়সড় নাশকতার ছক কষা হচ্ছিল। পলাতক মজিবুরের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।