‘পদ্মে ছাপ দিলেই ঘরে ঢুকবে কেউটে সাপ!’ পাথরপ্রতিমায় অভিষেকের ভয়ঙ্কর হুঁশিয়ারি!

ভোটের পারদ চড়তেই এবার সুন্দরবনের মাটি থেকে কালনাগিনী আর কেউটে সাপের উপমা টেনে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার পাথরপ্রতিমার জনসভা থেকে তিনি সাফ জানান, “ভুল করে পদ্মফুলে ছাপ দিলে নিজেদের বিপদ নিজেই ডেকে আনবেন, কারণ ওই চিহ্নে ভোট দেওয়া মানেই ঘরে কেউটে সাপ ঢোকানো!” রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপিকে আমজনতার শত্রু এবং বিপদের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করতেই এই চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিষেক।

তথ্য চুরি ও টাকার প্রলোভনের অভিযোগ পাথরপ্রতিমার মঞ্চ থেকে অভিষেক এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে বিজেপি তাঁদের ফোনে সরাসরি টাকার টোপ দিচ্ছে। অভিষেক বলেন, “মানুষের পার্সোনাল ডেটা ব্যবহার করে ফোন করা হচ্ছে। এমনকি আমাদের পোলিং এজেন্টদের তালিকাও ওদের হাতে পৌঁছে গিয়েছে। ফোন করে বলা হচ্ছে—আমাদের হয়ে কাজ করো, টাকা দেব!” দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে তিনি জানান, এই প্রলোভনে পা দেওয়া মানেই নিজের অধিকার বিক্রি করে দেওয়া।

বঞ্চনা বনাম উন্নয়ন: লক্ষ্য ৪০ হাজারি লিড কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে অভিষেক অভিযোগ করেন, ১০০ দিনের কাজ এবং আবাস যোজনার টাকা আটকে রেখে বিজেপি নেতারা বিলাসিতা করছেন। তাঁর কটাক্ষ, “মানুষের হকের টাকা বন্ধ করে দামি গাড়ি আর বিমানে ঘুরছে ওরা।” পাথরপ্রতিমা আসন থেকে গতবারের ২২ হাজারি জয়ের ব্যবধানকে দ্বিগুণ করে অন্তত ৪০ হাজার ভোটে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন তিনি। পালটা বিজেপিকে ৫০ হাজারের গণ্ডিতে আটকে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন কর্মীদের।

পাথরপ্রতিমার জন্য ‘পাঁচ প্রতিশ্রুতি’ উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে অভিষেক জানান, ডায়মন্ড হারবার মডেলেই পাথরপ্রতিমার ভোল বদলে দেবেন তিনি। তাঁর উল্লেখযোগ্য ঘোষণাগুলো হলো:

  • লক্ষ্মীর ভাণ্ডার: কোনোভাবেই বন্ধ হবে না এই প্রকল্প।

  • আবাস যোজনা: প্রতিটি গরিব পরিবারের জন্য পাকা বাড়ি নিশ্চিত করা।

  • দুয়ারে চিকিৎসা: ব্লক স্তরে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছানো।

  • পরিকাঠামো: হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদীতে ৪০ কোটির ফিশিং হারবার এবং নতুন বাস টার্মিনাস।

  • কৃষি বাজেট: কৃষকদের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ।

অভিষেক স্পষ্ট করে দেন, “এই লড়াই অধিকারের। ওরা ঠিক করতে পারে না আমরা কী খাব বা পরব। লড়াই হবে পার্লামেন্টে, মাঠে এবং কোর্টে।” ভোটের দিন সকলকে বুথমুখী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা বোতাম টিপে সাধারণ মানুষের টাকা আটকে রেখেছে, ব্যালটেই তাদের যোগ্য জবাব দিতে হবে।