“রাজ্যে কি সুপার এমার্জেন্সি চলছে?” ভোটের মুখে প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে আদালতে গর্জে উঠলেন কল্যাণ

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বাংলায় প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে সংঘাত এবার চরমে। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে সওয়াল করতে গিয়ে তৃণমূল সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন রাজ্যে কার্যত ‘সুপার এমার্জেন্সি’ জারি করেছে। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে ডিজি— একের পর এক শীর্ষস্তরের আধিকারিকদের বদলিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল অভিযোগ:
-
ক্ষমতার অপব্যবহার: সংবিধানে ৩৫৬ ধারা (রাষ্ট্রপতি শাসন) প্রয়োগ না করেই কমিশন যেভাবে প্রশাসনিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে, তা নজিরবিহীন।
-
গণবদলি: ৬৩ জন পুলিশ অফিসার, ১৩ জন এসপি এবং একাধিক জেলাশাসককে সরানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
-
ইমপিচমেন্টের হুঁশিয়ারি: এমনকি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার কথাও জানান তিনি, যেখানে বহু সাংসদের সমর্থন রয়েছে বলে দাবি তাঁর।
কমিশনের পাল্টা যুক্তি: নির্বাচন কমিশন এই সমস্ত অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। কমিশনের আইনজীবীর দাবি, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের স্বার্থেই এই রদবদল এবং সমস্ত প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই হয়েছে। পাশাপাশি, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই জনস্বার্থ মামলা করার অধিকার এবং তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। ভোটের আগে এই আইনি লড়াই এখন বাংলার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।