নবান্ন বনাম কমিশন! আমলা-পুলিশ বদলি নিয়ে হাইকোর্টে ধুন্ধুমার, মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন সিইও-র

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের শীর্ষ আমলা ও পুলিশ আধিকারিকদের বদলি ঘিরে আইনি লড়াই তুঙ্গে। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে নির্বাচন কমিশন সাফ জানিয়ে দিল, এই মামলার কোনো গ্রহণযোগ্যতাই নেই। কমিশনের দাবি, রাজ্য সরকারই পরোক্ষে এই মামলাটি করিয়েছে।
কমিশন বনাম রাজ্য: আদালতের সওয়াল-জবাব
-
কমিশনের যুক্তি: কমিশনের আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু জানান, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সংবিধান কমিশনকে প্রভূত ক্ষমতা দিয়েছে। মামলাকারী অর্ক নাগ আসলে রাজ্যেরই একজন নিযুক্ত আইনজীবী, তাই তাঁর এই ‘জনস্বার্থ’ মামলার কোনো ভিত্তি নেই। তিনি আরও যোগ করেন, ৩-৪ বছরের বেশি এক জায়গায় থাকলে আধিকারিকদের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব পড়ে, তাই এই বদলি জরুরি।
-
রাজ্যের পাল্টা দাবি: তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেন, “নির্বাচন কমিশন কি সরকারের সব দফতরের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারে?” তাঁর অভিযোগ, হঠাৎ করে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী ও স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনাকে সরিয়ে দেওয়ায় উন্নয়নমূলক কাজ থমকে গিয়েছে।
-
এজি-র বক্তব্য: রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত দাবি করেন, বদলি করার ক্ষমতা শুধুমাত্র নিয়োগকর্তারই থাকে, কমিশনের নয়। তাঁর মতে, কমিশন নিজের এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করছে।
প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানতে চান, কমিশন ঠিক কোন আইন লঙ্ঘন করেছে? এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায়।