ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ কি তবে থামছে? ট্রাম্পের ৫ দিনের ‘ডেডলাইন’ ঘিরে তোলপাড় বিশ্ব!

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামার মাঝেই এল এক নাটকীয় মোড়। বিশ্বজুড়ে চরম উত্তেজনার আবহে ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিকাঠামোয় সামরিক হামলা ৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এই বড় আপডেট দিয়েছেন তিনি।

কেন এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত? ট্রাম্পের দাবি, গত দু’দিনে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফেরাতে এবং সংঘাতের পূর্ণাঙ্গ সমাধানের লক্ষ্যে দুই দেশ এখন ‘সিরিয়াস’ আলোচনার টেবিলে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “গত ৪৮ ঘণ্টায় আমাদের মধ্যে যে নিবিড় ও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, তার ইতিবাচক আবহের প্রেক্ষিতেই আমি মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগকে আগামী ৫ দিন হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছি।”

হুঁশিয়ারি বনাম কূটনীতি: উল্লেখ্য, মাত্র একদিন আগেই ট্রাম্প ইরানকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তেহরান যদি হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দেয়, তবে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও জ্বালানি পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দেবে মার্কিন সেনা। কিন্তু সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সুর বদলালেন ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চরম সংঘাতের মুখ থেকে দু’দেশই এখন কূটনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটতে চাইছে।

সতর্কবার্তাও দিয়ে রাখলেন ট্রাম্প: তবে এই ৫ দিনের স্বস্তিই শেষ কথা নয়। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, হামলা পুরোপুরি বন্ধ হবে কি না, তা নির্ভর করবে ইরানের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনার সাফল্যের ওপর। যদি আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে আমেরিকা আবারও সামরিক পদক্ষেপের পথে হাঁটতে পারে।

ভারতের নজর পরিস্থিতির দিকে: আমেরিকা ও ইরানের এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ভারতও। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে নয়াদিল্লি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের আঁচ যাতে ভারতের অর্থনীতি বা জ্বালানি আমদানিতে না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক ভারত সরকার।