‘বিপর্যয় ঘটলে রাজ্য সামলাবে কে?’ মুখ্যসচিব ও পুলিশকর্তাদের গণ-বদলিতে কমিশনকে নজিরবিহীন আক্রমণ কল্যাণের

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে তুঙ্গে উঠল রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই। রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারসহ একাধিক শীর্ষ কর্তাকে সরানোর প্রতিবাদে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলো তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চে শুনানির সময় নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ শানান তৃণমূলের আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

আদালতে কল্যাণের কড়া সওয়াল: কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেন, রাজ্যে নজিরবিহীনভাবে ৬৩ জন পুলিশ অফিসার এবং ১৬ জন আইএএস (IAS) অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন:

  • “১৩ জন পুলিশ সুপারকে বদলি করা হয়েছে, অথচ অনেককেই নতুন কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এই অবস্থায় রাজ্যে কোনো বড় বিপর্যয় ঘটলে পরিস্থিতি সামাল দেবে কে?”

  • তিনি আরও যোগ করেন, স্বরাষ্ট্র সচিব সরাসরি নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নন, তা সত্ত্বেও তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি মুখ্যসচিবকেও এই রদবদলের আওতায় আনা হয়েছে।

আশঙ্কার মেঘ নবান্নে: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই এই বদলি নিয়ে বিজেপি ও কমিশনকে বিঁধেছিলেন। এদিন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে সেই সুর আরও চড়িয়ে দাবি করেন, এভাবে অভিজ্ঞ অফিসারদের সরিয়ে দিলে প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা আসতে পারে। অন্যদিকে, কমিশনের পাল্টা যুক্তি— অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থেই এই রদবদল প্রয়োজনীয়।

বিচারের বাণী এখন হাইকোর্টের হাতে। ভোটের মুখে এই আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।