২৮ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণ আজ! নাম না থাকলে ট্রাইব্যুনালে আবেদনের সুযোগ, জেলায় জেলায় পরিকাঠামো তৈরির নির্দেশ

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকায় নাম তোলা এবং বাদ পড়া নিয়ে এক নজিরবিহীন আইনি তৎপরতা শুরু হয়েছে। সোমবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ কুমার আগরওয়াল রাজ্যের মুখ্যসচিবকে একটি জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন। বিষয়— ট্রাইব্যুনাল গঠন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে দ্রুত এই ট্রাইব্যুনালগুলির পরিকাঠামো প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন এই ট্রাইব্যুনাল? গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষ নাম ‘বিবেচনাধীন’ ছিল। আজ অর্থাৎ সোমবার সন্ধ্যায় প্রথম দফার যে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হচ্ছে, তাতে অনেক নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও অনেকের নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ— যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে, তাঁরা নিজেদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে এই বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন।
চিঠিতে কী কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে? মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক তাঁর চিঠিতে মুখ্যসচিবকে জানিয়েছেন:
-
বাড়ি ও পরিকাঠামো: জেলায় জেলায় এমন জায়গায় ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধা হয়। দ্রুত এই বাড়িগুলি খুঁজে বের করতে হবে।
-
কর্মী নিয়োগ: ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতির অধীনে এই ১৯টি ট্রাইব্যুনাল কাজ করবে। তাঁদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় আধিকারিক ও কর্মচারী দ্রুত নিয়োগ করতে হবে।
-
গতিশীল কাজ: রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য ১৯টি ট্রাইব্যুনাল কাজ করবে। কাজ যাতে ‘ঝড়ের গতিতে’ চলে, তার জন্য পর্যাপ্ত লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করতে হবে।
আদালতের ভূমিকা: কলকাতা হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়ে এই ট্রাইব্যুনালগুলি গঠন করেছে। বর্তমানে রাজ্যে ৭০০-র বেশি বিচারক ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিক এই বিশাল কর্মযজ্ঞে শামিল রয়েছেন। আজ প্রকাশিত তালিকায় নাম না থাকলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই, ট্রাইব্যুনালে আবেদনের মাধ্যমেই মিলতে পারে ভোটের ছাড়পত্র।