মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ, কিন্তু ভারত সুরক্ষিত! দেশের বিশাল তেল ভাণ্ডার নিয়ে বড় আপডেট দিলেন প্রধানমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রের আঁচ যাতে ভারতীয় হেঁশেলে না পৌঁছয়, তার জন্য রক্ষাকবচ তৈরি রেখেছে কেন্দ্র। সোমবার লোকসভায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের ‘এনার্জি সিকিউরিটি’ বা জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে এক অভাবনীয় পরিসংখ্যান তুলে ধরলেন। বিশ্বজুড়ে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের আবহে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারতের হাতে বর্তমানে ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন পেট্রোলিয়াম মজুত রয়েছে।

ভারতের বিশাল তেলের ভাণ্ডার: প্রধানমন্ত্রী এদিন সংসদে স্পষ্ট করেন যে, গত এক দশকে তাঁর সরকার আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য অপরিশোধিত তেল মজুত রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। বর্তমানে ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থাকলেও সরকার এখানেই থেমে থাকতে রাজি নয়। মোদী জানান, “খুব শীঘ্রই এই মজুতের পরিমাণ ৬৫ লক্ষ মেট্রিক টন অতিক্রম করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।”

নির্ভরতা কমেছে, বেড়েছে অংশীদার: প্রধানমন্ত্রী আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন যা ভারতের কূটনীতির সাফল্যকে তুলে ধরে। আগে ভারত মাত্র ২৭টি দেশের ওপর জ্বালানি আমদানির জন্য নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু গত ১১ বছরে সেই তালিকায় বড় বদল এনেছে মোদী সরকার। বর্তমানে বিশ্বের ৪১টি দেশ থেকে ভারত জ্বালানি আমদানি করছে। এর ফলে কোনো নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলে যুদ্ধ বা অস্থিরতা তৈরি হলেও ভারতের তেল সরবরাহে বড়সড় বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা কমেছে।

হরমুজ সংকট ও ভারতের প্রস্তুতি: পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বাধার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তার মোকাবিলায় ভারতের এই ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ বা কৌশলগত ভাণ্ডার অত্যন্ত কার্যকর হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রধানমন্ত্রী এদিন দেশবাসীকে অভয় দিয়ে জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সরকার সবরকম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।