করোনার মতো ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক! মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রের আঁচ এবার সরাসরি ভারতের অন্দরে। সোমবার লোকসভায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট জানালেন, পশ্চিম এশিয়ার এই যুদ্ধের প্রভাব হবে দীর্ঘস্থায়ী। বিশ্বব্যাপী এই সংকটের মোকাবিলায় দেশবাসীকে করোনার সময়কার মতো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর মতে, কেন্দ্র, রাজ্য এবং প্রতিটি নাগরিক একজোট হয়ে লড়লে এই চ্যালেঞ্জ সামাল দেওয়া সম্ভব।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও ৪১টি দেশের ভরসা: যুদ্ধের আবহে রান্নার গ্যাস (LPG) ও তেলের জোগান নিয়ে দেশবাসীর দুশ্চিন্তা দূর করতে বড় তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান:
-
আগে ভারত মাত্র ২৭টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করত, এখন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১-এ।
-
দেশে বর্তমানে ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন পেট্রোলিয়াম মজুত (Strategic Reserve) আছে, যা বাড়িয়ে ৬৫ লক্ষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
-
তেল সংস্থাগুলোর নিজস্ব মজুত বাদেও এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।
কালোবাজারি ও গুজবে ‘জিরো টলারেন্স’: সংকটের সুযোগ নিয়ে যারা কালোবাজারি বা বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যেকোনো বিপদের সময় কিছু মানুষ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। এদের বিরুদ্ধে প্রতিটি রাজ্য ও নাগরিককে সতর্ক থাকতে হবে।”
ভারতীয়দের উদ্ধার ও কৃষকদের সুরক্ষা: যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল থেকে এখনও পর্যন্ত ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার ভারতীয়কে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে ইরান থেকেই ফিরেছেন ১০০০ জন, যাদের মধ্যে ৭০০ জনই ডাক্তারি পড়ুয়া। সংঘাতের জেরে কৃষি ব্যবস্থার যে ক্ষতি হচ্ছে, তা নিয়ে কৃষকদের আশ্বস্ত করে মোদী বলেন, “সরকার সবসময় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করেছে, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।”
সবশেষে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানের বার্তা দিয়ে মোদী জানান, তিনি পশ্চিম এশিয়ার সমস্ত রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। পণ্যবাহী জাহাজে হামলা বা হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করা কাম্য নয় বলেও সাফ জানান তিনি।