সোনা কি সস্তা? ১ লক্ষ ৩০ হাজারে নামতেই কেনার ধুম! এই ৭টি ভুল করলেই খোয়াবেন সব টাকা!

পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারের অস্থিরতার মাঝে এক নাটকীয় মোড় নিল সোনার বাজার। গত কয়েক মাসে যে সোনার দাম আকাশছোঁয়া হয়ে প্রায় ২ লাখ টাকার গণ্ডি ছুঁয়েছিল, তা এখন হু হু করে নেমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। এই বিশাল পতনে সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সোনা কেনার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। কিন্তু এই উন্মাদনার মাঝে একটি ভুল পদক্ষেপ আপনার কষ্টের উপার্জিত টাকা নষ্ট করে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, দাম কম দেখে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে এই ৭টি বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা থাকা আবশ্যিক।
১. হলমার্কিং ও HUID যাচাই: সোনা কেনার প্রথম এবং প্রধান শর্ত হলো হলমার্ক। বর্তমান সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বিআইএস (BIS) লোগো এবং ছয় সংখ্যার আলফানিউমেরিক এইচইউআইডি (HUID) নম্বর ছাড়া সোনা কেনা আইনত এবং আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। শুধুমাত্র লোগো দেখে বিশ্বাস করবেন না, প্রতিটি গয়নার গায়ে খোদাই করা অনন্য কোডটি মিলিয়ে নিন।
২. ক্যারেটের কারসাজি: বিশুদ্ধতার বিষয়ে সম্যক ধারণা না থাকলে ঠকার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ। সাধারণত ২২ ক্যারেট (22K) গয়না তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, যার বিআইএস চিহ্ন হলো ‘916’। অন্যদিকে ১৮ ক্যারেট (18K) সোনার চিহ্ন ‘750’। মনে রাখবেন, ২৪ ক্যারেট সোনা দিয়ে মজবুত গয়না তৈরি সম্ভব নয়।
৩. BIS Care App-এর জাদু: আপনার স্মার্টফোনে থাকা একটি অ্যাপই রুখে দিতে পারে জালিয়াতি। ‘BIS Care App’ ডাউনলোড করে গয়নার গায়ে থাকা HUID নম্বরটি সার্চ করুন। এতে গয়নাটি কবে তৈরি হয়েছে, তার বিশুদ্ধতা কত এবং কোন জুয়েলার এটি তৈরি করেছে—সব তথ্য হাতের মুঠোয় চলে আসবে।
৪. পাকা বিলের গুরুত্ব: অনেক সময় কর বাঁচাতে কাঁচা রসিদে সোনা কেনেন অনেকে। এটি মারাত্মক ভুল। গোল্ড ইনভয়েসে সোনার সঠিক ওজন, ক্যারেট, HUID নম্বর এবং ‘মেকিং চার্জ’ বা মজুরি আলাদাভাবে উল্লেখ থাকা জরুরি। মনে রাখবেন, সোনার মূল্যের ওপর ৩% এবং মেকিং চার্জের ওপর ৫% জিএসটি (GST) দিতে হয়। পাকা বিল না থাকলে পরবর্তীকালে সোনা বিক্রি বা এক্সচেঞ্জ করার সময় আপনি বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন।
৫. ল্যাব টেস্ট ও ক্রেতার অধিকার: যদি গয়না কেনার পর বিশুদ্ধতা নিয়ে সন্দেহ জাগে, তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। মাত্র ২০০ টাকার বিনিময়ে যেকোনো বিআইএস-স্বীকৃত ল্যাবে সোনা পরীক্ষা করাতে পারেন। পরীক্ষায় মান কম প্রমাণিত হলে জুয়েলারকে সেই ঘাটতির দ্বিগুণ মূল্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে।
৬. বিনিয়োগের স্মার্ট বিকল্প: যদি পরার শখ না থাকে, তবে গয়না হিসেবে সোনা কেনা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সেক্ষেত্রে গোল্ড ইটিএফ (Gold ETF) বা গোল্ড মিউচুয়াল ফান্ড বেছে নিন। এতে চুরির ভয় নেই এবং ৯৯.৫% বিশুদ্ধতার গ্যারান্টি থাকে। ডিজিটাল সোনা বা পেপার গোল্ডে বিনিয়োগ করলে মেকিং চার্জের বাড়তি খরচও বাঁচে।
৭. মেকিং চার্জের আড়ালে লুকানো ফাঁদ: বহু নামী সংস্থা মেকিং চার্জে বিশাল ছাড়ের বিজ্ঞাপন দেয়। মনে রাখবেন, অনেক সময় সোনার মূল দাম সামান্য বাড়িয়ে দিয়ে মজুরিতে ছাড় দেওয়া হয়। তাই দোকানে ঢোকার আগে ওই দিনের বাজারদর যাচাই করে নিন।