ভোটের লাইনে আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা নয়! ভোটারদের জন্য একগুচ্ছ ‘রাজকীয়’ সুবিধা আনল কমিশন

পশ্চিমবঙ্গসহ পাঁচ রাজ্যের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই কোমর বেঁধে নামল নির্বাচন কমিশন। ভোটারদের অভিজ্ঞতাকে আরও মসৃণ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে এবার একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের (CEO) পাঠানো এই নির্দেশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এবার ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের আর রোদে পুড়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট পেতে হবে না। ২,১৮,৮০৭টি ভোটকেন্দ্রের প্রত্যেকটিতে ‘অ্যাসিওর্ড মিনিমাম ফেসিলিটিজ’ (AMF) বা ন্যূনতম সুবিধা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বুথে কী কী নতুন সুবিধা মিলছে?
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি বুথে পানীয় জল, ছায়াযুক্ত অপেক্ষার জায়গা এবং জলের সুবিধাসহ পরিষ্কার শৌচাগার থাকতে হবে। বিশেষভাবে সক্ষম (PwD) ভোটারদের জন্য সঠিক মাপের র‍্যাম্প এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় চমক হলো, লাইনে দাঁড়িয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়লে ভোটারদের জন্য নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর বসার বেঞ্চের ব্যবস্থা থাকবে। অর্থাৎ, এবার আপনি বসে বসেই নিজের ভোটের পালার জন্য অপেক্ষা করতে পারবেন।

মোবাইল ফোন ও সহায়তা বুথ:
ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন নিয়ে ঢোকা নিষিদ্ধ থাকলেও, এবার ভোটারদের সুবিধার্থে বুথের বাইরেই ফোন জমা রাখার বিশেষ কাউন্টার থাকবে। সেখানে ফোন সুইচ অফ করে জমা দিয়ে নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারবেন নাগরিকরা। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে একটি ‘ভোটার অ্যাসিস্ট্যান্স বুথ’ (VAB), যেখানে বিএলও (BLO)-রা উপস্থিত থাকবেন। ভোটার তালিকায় নিজের নাম বা ক্রমিক নম্বর খুঁজে পেতে কোনো সমস্যা হলে এখান থেকেই মিলবে চটজলদি সমাধান।

সচেতনতায় বিশেষ পোস্টার:
বুথে ঢোকার আগেই ভোটাররা যাতে প্রার্থী তালিকা, প্রয়োজনীয় নথি এবং ভোট দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারেন, তার জন্য চারটি বিশেষ ‘ভোটার ফেসিলিটেশন পোস্টার’ (VFP) লাগানো হবে। কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই পরিষেবাগুলিতে কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। ভোটের দিন আসার আগেই সমস্ত পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ফিল্ড আধিকারিকদের।