‘ধুরন্ধর’ ঝড়ের নেপথ্যে অর্জুন রামপালের কান্না! ২৬/১১-র রাতে যমদূতকে কাছ থেকে দেখেছিলেন অভিনেতা

বক্স অফিসে এখন ‘ধুরন্ধর’ ও ‘ধুরন্ধর ২’-এর জয়জয়কার। রণবীর সিংয়ের দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আই এস আই (ISI) এজেন্টের মূলচক্রীর চরিত্রে অর্জুন রামপালকে দেখে শিউরে উঠছেন দর্শকরা। কিন্তু পর্দার এই রূঢ় বাস্তব অর্জুনের কাছে কেবল অভিনয় ছিল না, ছিল এক হাড়হিম করা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানিয়েছেন, ২০০৮ সালের সেই অভিশপ্ত ২৬শে নভেম্বর তিনিও হতে পারতেন তাজ হোটেলের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের শিকার।
জন্মদিনেই যমদূতের মুখোমুখি:
২৬শে নভেম্বর ছিল অর্জুন রামপালের জন্মদিন। বন্ধুদের নিয়ে ওরলির ফোর সিজনস হোটেলে জড়ো হয়েছিলেন তিনি। পরিকল্পনা ছিল সেখান থেকে দক্ষিণ মুম্বইয়ের তাজ হোটেলে গিয়ে জমকালো নৈশভোজ সারবেন। অর্জুন স্মৃতিচারণ করে বলেন, “সেদিন আমার এক বন্ধুর তৈরি হতে একটু দেরি হচ্ছিল। ভাগ্যিস দেরি হয়েছিল! আমরা হোটেলের বারে বসে ড্রিঙ্কস অর্ডার করেছি, ঠিক তখনই মাহিমের কাছে প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে। শব্দের তীব্রতায় আমার হাতের গ্লাস কেঁপে উঠেছিল।” মাত্র ১০-২০ মিনিটের মধ্যেই খবর আসে কোলাবায় আতঙ্কবাদী হামলা শুরু হয়েছে। পুরো হোটেল ঘিরে ফেলে পুলিশ। নিজের জন্মদিনে টিভির পর্দায় সেই নারকীয় তাণ্ডব দেখেছিলেন অর্জুন।
অভিনয় নয়, এ যেন এক প্রতিশোধ:
পরিচালক আদিত্য ধর যখন ‘ধুরন্ধর’-এর চিত্রনাট্য শোনান, অর্জুন বুঝেছিলেন এটাই তাঁর মনের ক্ষত উপশমের সুযোগ। অভিনেতা বলেন, “চিত্রনাট্য শোনার পর আমি জানতাম, এই অভিনয়ের মাধ্যমেই আমি আমার প্রতিশোধ নেব। আমি কেবল এটুকুই বলতে চাই— ভারত মাতা কী জয়।” সোশ্যাল মিডিয়ায় এক অনুরাগী তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, একজন ভারতীয় হয়ে দেশবিরোধী সন্ত্রাসবাদীর চরিত্রে অভিনয় করা কতটা কঠিন ছিল? বিশেষ করে সেই দৃশ্যটি, যেখানে মুম্বই হামলা উদযাপন করা হচ্ছে। অর্জুন স্পষ্ট জানান, সেটি ছিল তাঁর জীবনের কঠিনতম দৃশ্য। পর্দার সন্ত্রাসবাদীর মুখোশের আড়ালে আসলে কাঁদছিল এক ভারতবাসীর মন। আজ ‘ধুরন্ধর ২’ প্রেক্ষাগৃহে ঝড় তুললেও অর্জুন রামপালের এই ব্যক্তিগত লড়াই অনুরাগীদের মনে নতুন করে দাগ কেটেছে।