শিক্ষকদের জন্য নেই সপ্তম বেতন কমিশন? বঞ্চনার অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া চিঠি শিক্ষক সংগঠনের!

রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) গঠনের ঘোষণা হলেও, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক ঘোষণার পর থেকেই শিক্ষক মহলে দানা বেঁধেছে ক্ষোভ। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের ন্যায্য পাওনার দাবিতে সরব হয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠাল ‘বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী সমিতি’। শনিবার সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো এই চিঠিতে দ্রুত পদক্ষেপ করার আর্জি জানানো হয়েছে।
চিঠিতে ঠিক কী অভিযোগ করা হয়েছে?
গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্য বাজেট পেশের সময় মুখ্যমন্ত্রী যখন সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের কথা বলেন, তখন বিধানসভার বক্তব্য অনুযায়ী মনে করা হয়েছিল এটি মূলত সরকারি কর্মচারীদের জন্যই প্রযোজ্য। শিক্ষক সংগঠনের অভিযোগ, ওই ঘোষণায় শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী বা সরকার-পোষিত সংস্থার কর্মীদের কথা স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে রাজ্যের এক বিশাল অংশের কর্মীরা এই আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
শিক্ষক সংগঠনের মূল দাবিগুলো কী কী?
সংগঠননেতা স্বপন মণ্ডলের সই করা এই চিঠিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে:
সমতা বজায় রাখা: রাজ্য কোষাগার থেকে যাঁরা বেতন পান, তাঁদের সকলকেই যেন এই কমিশনের আওতায় আনা হয়।
আর্থিক নিরাপত্তা: দীর্ঘদিনের বকেয়া ও বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বেতন কাঠামো সংস্কার করা জরুরি।
অসন্তোষের বার্তা: যদি শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীদের এই সুবিধা দেওয়া হয়, তবে শিক্ষাক্ষেত্রে বড় ধরনের অসন্তোষ তৈরি হবে, যার প্রভাব আসন্ন নির্বাচনেও পড়তে পারে বলে মনে করছে সংগঠন।
শিক্ষক সংগঠনের দাবি, রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার মেরুদণ্ড হলেন এই শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। তাঁদের উপেক্ষা করে নতুন বেতন কমিশন গঠন করা হলে তা হবে চূড়ান্ত বৈষম্য। এখন দেখার, নির্বাচনের আগে এই ‘মাস্টারমশাই’দের মন রাখতে রাজ্য সরকার কোনও নতুন নির্দেশিকা জারি করে কি না।