“৫ বছর মিসাইল বন্ধ, ইউরেনিয়াম জিরো…!”- যুদ্ধ বন্ধে ইরানকে কী কী শর্ত দিলেন ট্রাম্প?

মধ্যপ্রাচ্যের রণাঙ্গনে এবার কামানের গর্জনের মাঝেই শুরু হয়েছে কূটনৈতিক লড়াই। আমেরিকা ও ইজরায়েলের সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে পড়েও নতিস্বীকার করতে নারাজ ইরান। এরই মধ্যে খবর আসছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন পরোক্ষভাবে তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরু করেছে। তবে দুই পক্ষের দেওয়া শর্তের পাহাড়ে এই শান্তি প্রক্রিয়া আদতে কতটা সফল হবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।

নেপথ্যে ট্রাম্পের দুই ‘তুরুপের তাস’

সরাসরি কথা না বললেও, ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ জারেদ কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এই আলোচনার প্রধান কারিগর হিসেবে কাজ করছেন। ব্রিটেন, মিশর এবং কাতারের মতো দেশগুলো এই মুহূর্তে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দৌত্য চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও কূটনৈতিক মহলের ধারণা, আগামী তিন সপ্তাহের আগে কোনো স্থায়ী সমাধান আসা প্রায় অসম্ভব।

আমেরিকার কড়া শর্ত: একনজরে

যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সামনে যে শর্তগুলো রেখেছে, তা একপ্রকার ‘চরমপত্র’ বা আল্টিমেটাম:

  • ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি: আগামী ৫ বছরের জন্য সমস্ত ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।

  • পরমাণু কেন্দ্র: ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ (Enrichment) কমিয়ে শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে এবং প্রধান পরমাণু কেন্দ্রগুলো চিরতরে সিল করে দিতে হবে।

  • আঞ্চলিক প্রভাব: হিজবুল্লা, হামাস ও হাউথিদের মতো গোষ্ঠীকে কোনো রকম সামরিক বা আর্থিক সাহায্য করা যাবে না।

ইরানের পাল্টা চাল: ‘আগে ক্ষতিপূরণ দাও’

আমেরিকার এই সব শর্তকে কার্যত উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ আমেরিকা ও ‘জায়নবাদী’ ইজরায়েলের সৃষ্টি। তাই আগে ইজরায়েলি হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি দিতে হবে যে ভবিষ্যতে আর কোনো আক্রমণ হবে না। এই ‘ক্ষতিপূরণ’ ইস্যুতেই এখন থমকে রয়েছে আলোচনা।

ভারত কেন দুশ্চিন্তায়?

মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি এসে পড়ছে ভারতীয় আমজনতার হেঁশেলে। হরমুজ প্রণালী আংশিক বন্ধ থাকায়:

  • বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে।

  • ভারতে এলপিজি (LPG) এবং জ্বালানি তেলের তীব্র সঙ্কট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

  • পেট্রোল-ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত এখন তাকিয়ে রয়েছে কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতার দিকে।