সুস্থ হতে যাওয়াই কাল হল! মাঝপথে অ্যাম্বুলেন্স পিষল ঘাতক ট্রাক, মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্তব্ধ ধেকিয়াজুলি

অসমের শোণিতপুর জেলায় ঘটে গেল এক হাড়হিম করা পথ দুর্ঘটনা। সুস্থ হওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন এক রোগী। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই যমদূত হয়ে এল একটি ঘাতক ট্রাক। রবিবার রাতে শোণিতপুরের ধেকিয়াজুলি থানা এলাকায় ১৫ নম্বর জাতীয় সড়কে অ্যাম্বুলেন্স ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৭ জন। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
দুর্ঘটনার বিভীষিকা:
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি অ্যাম্বুলেন্স রোগী ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে তেজপুর মেডিক্যাল কলেজের দিকে যাচ্ছিল। সেই সময় বিপরীত দিক অর্থাৎ তেজপুর থেকে গুয়াহাটির দিকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে সেটির জোরালো সংঘর্ষ হয়। ধাক্কাটি এতটাই তীব্র ছিল যে ঘটনাস্থলেই ৬ জনের মৃত্যু হয়। দুমড়ে-মুচড়ে যায় অ্যাম্বুলেন্সের সামনের অংশ। খবর পেয়েই ধেকিয়াজুলি থানার পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গুরুতর আহত অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলে, মাঝরাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। বর্তমানে আরও একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন।
পুলিশি তৎপরতা ও তদন্ত:
শোণিতপুরের পুলিশ সুপার বরুণ পুরকায়স্থ জানান, ক্রেন এনে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি দুটিকে রাস্তা থেকে সরানো হয়েছে। দুর্ঘটনার জেরে দীর্ঘক্ষণ ১৫ নম্বর জাতীয় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পুলিশের তৎপরতায় তা পরে স্বাভাবিক হয়। প্রাথমিক তদন্তে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুটি গাড়িরই গতিবেগ অত্যন্ত বেশি ছিল, যার ফলে চালকরা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে মৃতদের পরিবারে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জাতীয় সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ব্যস্ততম এই রাস্তায় মাঝেমধ্যেই তীব্র যানজট ও বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। পুলিশ ঘাতক ট্রাকটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে।