ট্রাম্পের আল্টিমেটাম, যুদ্ধের দোরগোড়ায় ইরান! বন্ধু তেহরানকে বাঁচাতে কি এগিয়ে আসবে চীন?

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের দামামা। একদিকে তেহরানের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার চরম আল্টিমেটাম, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় তেলের দামে ৭০ শতাংশের আকাশছোঁয়া বৃদ্ধি। এই চরম উত্তেজনার মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের ‘কৌশলগত অংশীদার’ ইরানের পাশ থেকে কার্যত দূরত্ব বজায় রাখল চীন। বেজিংয়ের এই রহস্যময় নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
ইউকে চায়না ট্রান্সপারেন্সির ট্রাস্টি হাওয়ার্ড ঝাং এই পরিস্থিতির গভীরে গিয়ে জানিয়েছেন, চীন ও ইরানের অংশীদারিত্বের একটি স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ঝাং-এর মতে, কৌশলগত মিত্রতার লম্বা চওড়া বুলি আওড়ালেও ইরান সংকটে বেজিং কেবল ‘সংযম’ প্রদর্শনের গৎবাঁধা আহ্বান এবং সাধারণ কূটনৈতিক সহানুভূতি জানিয়েই দায় সেরেছে। তেহরানকে কোনো সামরিক সুরক্ষা বা এমন কোনো ব্যয়বহুল সাহায্যের প্রস্তাব চীন দেয়নি, যা তাদের সরাসরি আমেরিকার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে, ইরান যদি অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয়, তবে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়ে সেগুলোকে মানচিত্র থেকে মুছে দেবে। এর জবাবে ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইজরায়েলি জ্বালানি সম্পদের ওপর পাল্টা হামলার। এই সংঘাতের রেশ লেবানন পর্যন্ত পৌঁছেছে, যেখানে ইজরায়েল কাসমিয়া সেতু ধ্বংস করে দিয়ে পুরোদস্তুর স্থল অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছে।
হাওয়ার্ড ঝাং যুক্তি দিয়েছেন যে, চীনের কাছে সব বন্ধু সমান নয়। চীনের বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের একটি নিজস্ব ‘হায়ারার্কি’ বা পদমর্যাদা রয়েছে। এই তালিকায় রাশিয়া সবার ওপরে এবং পাকিস্তান একটি অত্যন্ত সুবিধাজনক নিরাপত্তা স্তরে অবস্থান করছে। পাকিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থান এবং চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (CPEC) বেজিংয়ের কাছে বড্ড বেশি মূল্যবান। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে সমীকরণটি ভিন্ন। চীনের কাছে ইরান একটি ‘বিঘ্ন সৃষ্টিকারী’ শক্তি এবং জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তেহরানের ভাগ্যের সঙ্গে নিজের কৌশলগত স্বাধীনতাকে বাজি ধরতে রাজি নয় বেজিং। এমনকি হরমুজ প্রণালীতে বিঘ্ন ঘটায় চীনের নিজস্ব তেল আমদানিতে সমস্যা হওয়া সত্ত্বেও, চীন কেবল দর্শক হিসেবে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে। ঝাং-এর কথায়, আসল প্রশ্ন চীন কাউকে ‘অংশীদার’ বলছে কি না তা নয়, বরং সেই দেশের জন্য বেজিং কতটা ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত, সেটাই আসল।