ভোটের দায়ে এবার নাপিত বিজেপি প্রার্থী! বীরভূমে ভোটারের দাড়ি কামিয়ে নেটপাড়ায় হাসির খোরাক অনুপ সাহা

ভোট বড় বালাই! ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা যে কত কী করতে পারেন, তার এক অদ্ভুত নিদর্শন দেখা গেল বীরভূমের দুবরাজপুরে। প্রচারে বেরিয়ে এবার সরাসরি নাপিতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন দুবরাজপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অনুপ সাহা। রেজার হাতে এক ভোটারের দাড়ি কামিয়ে দেওয়ার সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যের ঝড়।

ঘটনাটি ঘটেছে দুবরাজপুরের বালিজুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের কুলেকুড়ি গ্রামে। সাদা পাঞ্জাবি আর গলায় গেরুয়া উত্তরীয় পরে বাড়ি বাড়ি জনসংযোগে বেরিয়েছিলেন বিদায়ী বিধায়ক অনুপ সাহা। হঠাৎই তাঁর নজরে পড়ে এক ব্যক্তি বাড়ির বাইরে বসে দাড়ি কামাচ্ছেন। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ব্যক্তির হাত থেকে রেজার কেড়ে নিয়ে নিজেই দাড়ি কামাতে শুরু করেন বিজেপি প্রার্থী। এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা ভিডিও করতে শুরু করেন, যা পরবর্তীতে ভাইরাল হয়। নেটজনতার একাংশ একে ২০২১ সালে খড়গপুরের বিজেপি প্রার্থী হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের এক ব্যক্তিকে সাবান মাখিয়ে স্নান করানোর ঘটনার সঙ্গে তুলনা করছেন।

এই কাণ্ড নিয়ে সাফাই দিয়ে অনুপ সাহা বলেন, “আমি প্রচারে বেরিয়েছিলাম, দেখলাম ওই মানুষটির দাড়ি কাটতে অসুবিধা হচ্ছে। একজন জনপ্রতিনিধির কাজই হলো মানুষের ছোট ছোট বিষয়ে পাশে দাঁড়ানো। আমি শুধু সহযোগিতা করেছি মাত্র। মানুষ এখানে পদ্মফুলকেই চেনে, আমি জিতবই।”

পাল্টা আক্রমণ শানাতে ছাড়েনি ঘাসফুল শিবির। তৃণমূল প্রার্থী নরেশচন্দ্র বাউড়ি কটাক্ষ করে বলেন, “সারা বছর এঁদের দেখা পাওয়া যায় না। এখন ভোট পেতে আর কত নিচে নামবেন? এসব করে ভিডিও বানিয়ে হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। মানুষ তাঁকে জোকার ভাবছে।”

উল্লেখ্য, একদা বাম দুর্গ বীরভূমে অনুব্রত মণ্ডলের দাপটে তৃণমূলের একাধিপত্য থাকলেও ২০২১ সালে এই দুবরাজপুর আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছিলেন অনুপ সাহা। এবার লড়াই আরও কঠিন, কারণ তৃণমূলের টিকিটে লড়ছেন কাজল শেখের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত হেভিওয়েট নেতা নরেশচন্দ্র বাউড়ি। লালমাটির এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ‘দাড়ি কামানোর কৌশল’ কাজে লাগে না কি মানুষ অন্য রায় দেয়, সেটাই এখন দেখার।