এক শরীর, দুই মাথা! আলিগড়ে বিরল যমজ সন্তানের জন্ম, খুশির জোয়ারে নিমেষেই শোকের ছায়া

আলিগড়ের সাসনি গেট এলাকায় ঘটে যাওয়া এক ঘটনা উত্তরপ্রদেশসহ গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এটি কেবল একটি বিরল চিকিৎসাগত বিষয় নয়, বরং বিজ্ঞান, আবেগ এবং এক চরম ট্র্যাজেডির মিশেল। ১৭ মার্চ বিহারী নগরের বাসিন্দা আকাশ কুমারের স্ত্রী নীরু প্রসববেদনা নিয়ে জেলা মহিলা হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু নবজাতক ভূমিষ্ঠ হতেই অপারেশন থিয়েটারে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা।
জন্ম নিয়েছে এক জোড়া যমজ শিশু, তবে তারা সাধারণ নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এরা ‘কনজয়েন্ড টুইনস’ (Conjoined Twins) বা জোড়া লাগানো যমজ। শিশু দুটির দুটি আলাদা মাথা, দুটি হাত এবং চারটি পা থাকলেও তাদের ধড় বা শরীর ছিল একটিই। জন্মের পর শিশুদের কান্নার শব্দে প্রাণচঞ্চলতা থাকলেও, পরিবারের জন্য এই আনন্দ স্থায়ী হয়নি।
সন্তানদের এই অস্বাভাবিক শারীরিক অবস্থার কথা জানার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মা নীরু। চিকিৎসকদের মতে, অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শারীরিক সূচকগুলো স্বাভাবিক থাকলেও সন্তানদের নিয়ে চরম উদ্বেগ ও মানসিক আঘাতের ফলে সন্ধ্যার দিকে তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটে। দ্রুত তাঁকে মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হলেও, সময়ের অভাবে তা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে থাকা অবস্থায় মৃত্যু হয় নীরুর। এক নিমিষেই নতুন প্রাণের আগমনের আনন্দ রূপ নেয় মাতৃহারা পরিবারের আর্তনাদে।
চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ ও আগামীর লড়াই:
হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মেঘা বার্ষ্ণেয় জানিয়েছেন, এই ঘটনাটি অত্যন্ত জটিল। শিশু দুটির শরীর বুকের অংশ দিয়ে একে অপরের সঙ্গে জোড়া লাগানো। বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—তাদের হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস এবং লিভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো কি আলাদা, না কি একটিই? এর ওপরই নির্ভর করছে ভবিষ্যতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের আলাদা করা সম্ভব হবে কি না।
ইতিমধ্যেই শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ দলের কাছে রেফার করা হয়েছে। যদি অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলো আলাদা থাকে, তবেই অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে কোনো অত্যাবশ্যকীয় অঙ্গ একটিই হলে এই প্রক্রিয়া জীবনঝুঁকির কারণ হতে পারে। বর্তমানে গোটা আলিগড় এই যমজ শিশুদের বেঁচে থাকার লড়াই এবং মৃত মায়ের জন্য শোকাতুর।