“হেঁটে টয়লেটে যেতে গিয়ে পড়ে গেল …!”-মর্মান্তিক বর্ণনা আরজি করে মৃতার স্ত্রীর

আরজি কর হাসপাতাল যেন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু থেকে সরছেই না। লিফটে পিষে মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ন্যূনতম পরিকাঠামো ও স্ট্রেচারের অভাবে প্রাণ গেল আরও এক রোগীর। নিমতার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ সামন্তের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে ফের একবার রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার কঙ্কালসার চেহারাটা প্রকট হয়ে উঠল।

ঠিক কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত ভোরে?

শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে রবিবার রাতে আরজি করের ট্রমা কেয়ার বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন বিশ্বজিৎবাবু। পরিবারের দাবি, প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর নাক দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ হয়েছিল এবং তিনি কিছুটা সুস্থ বোধ করছিলেন। কিন্তু ভোরবেলা শৌচালয়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়লে শুরু হয় চরম দুর্ভোগ।

অভিযোগ, ট্রমা কেয়ার বিভাগের ওই তলায় কোনো ব্যবহারযোগ্য শৌচালয় ছিল না। হাসপাতালের কর্মীরা সাফ জানিয়ে দেন, প্রায় ১০০ মিটার দূরে বাইরে থাকা সুলভ শৌচালয় ব্যবহার করতে হবে। বারবার স্ট্রেচার চাইলেও তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ মৃতের পরিবারের।

মৃত্যুমিছিলের সাক্ষী আরজি কর!

অসুস্থ শরীরে শ্বাসকষ্ট নিয়েই প্রায় ৫০ মিটার হাঁটার পর দোতলায় ওঠার সময় অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়েন বিশ্বজিৎবাবু। জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে মৃতের স্ত্রী ইলা সামন্ত প্রশ্ন তোলেন, “একটা অসুস্থ মানুষ, যাঁর শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল, তাঁকে একটা স্ট্রেচার দেওয়া হল না? সিঁড়ি ভেঙে দোতলায় যেতে হল! সরকার কি এগুলো দেখে না? অনেক আশা নিয়ে আরজি করে এসেছিলাম, কিন্তু এখানে তো সুস্থ মানুষও মরছে!”

হাসপাতালের সাফাই ও পুলিশের পদক্ষেপ

হাসপাতাল সূত্রে খবর, লিফট খারাপ থাকা এবং ট্রমা বিভাগের নিকটবর্তী শৌচালয় অপরিষ্কার হওয়ার কারণেই রোগীকে দূরে যেতে বলা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, হাঁটার ধকল সইতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। টালা থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে এবং দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

পর পর লিফট এবং শৌচালয় কাণ্ডে আরজি করের অব্যবস্থা নিয়ে এখন ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ। সাধারণের একটাই প্রশ্ন— আর কত মৃত্যু হলে টনক নড়বে কর্তৃপক্ষের?