যুদ্ধের বাজারে ইরানের মোক্ষম চাল! হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ গেলেই দিতে হবে ১৮.৮ কোটি টাকা

যুদ্ধ শুধু ধ্বংসই আনে না, চতুর রাষ্ট্রশক্তির সামনে আয়ের পথও খুলে দেয়। আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে তীব্র সংঘাতের আবহে ইরান ঠিক এই পথই বেছে নিয়েছে। একদিকে যখন সামরিক অস্ত্রশস্ত্রের পিছনে কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে, তখন সেই খরচ উসুল করতে ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz)-কে হাতিয়ার করল ইরান। বিশ্বের তেল ও জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই নাব্য পথ দিয়ে যাতায়াতের জন্য এখন থেকে প্রতিটি জাহাজ পিছু ২ মিলিয়ন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৮.৮ কোটি টাকা চার্জ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান।
কূটনীতিকদের মতে, এটি ইরানের একটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত চাল। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করায় ইতিমধ্যেই সমুদ্রে জাহাজের দীর্ঘ লাইন পড়ে গিয়েছে। ইরান এখন বেছে বেছে কিছু জাহাজকে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে, তবে তার বিনিময়ে দিতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের এই ফি। ইরানের সংসদের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিটির সদস্য আলয়েদ্দিন বোরোউজার্দি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি ইরানের সার্বভৌম শক্তির প্রতিফলন। তাঁর মতে, যুদ্ধের বিপুল খরচ সামলাতেই এই ‘ট্রানজিট ফি’ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে এই পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে পারদ চড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী না খুললে ইরানের পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোতে হামলা চালাবে আমেরিকা। পাল্টাপাল্টি হুমকি দিয়েছে ইরানও। তাদের দাবি, ইজরায়েলের জ্বালানি ভাণ্ডার এবং আমেরিকার বিভিন্ন পরিকাঠামো এখন ইরানের মিসাইলের পাল্লার মধ্যেই রয়েছে। এক দিনের মধ্যেই সেই সমস্ত পরিকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে তারা। সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালী এখন বিশ্ব অর্থনীতির এক বিপজ্জনক ‘চেকপয়েন্ট’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।