অষ্টম বেতন কমিশন: ১৯৫৭-র সেকেলে ফর্মুলা কি তবে ইতিহাস? বেতন-পেনশনে বাম্পার বৃদ্ধির সম্ভাবনা!

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত অষ্টম বেতন কমিশনের (8th Pay Commission) সুপারিশ কার্যকর হওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণ এগিয়ে আসছে। বর্তমানে দালান কোঠার আড্ডায় সবথেকে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মহার্ঘ ভাতা (DA) গণনার পুরনো সূত্র বদলানোর দাবি। ১৯৫৭ সালের ‘আইক্রয়েড ফর্মুলা’ বর্তমান আকাশছোঁয়া বাজারদরের সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেই মনে করছে বিভিন্ন কর্মী সংগঠন। এই দাবি বাস্তবায়িত হলে কর্মীদের বেসিক পে, ডিএ এবং পেনশন—সবক্ষেত্রেই আসবে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
কেন এই আমূল বদলের দাবি?
বর্তমানে এআইটিইউসি (AITUC)-সহ একাধিক সংগঠনের মতে, বর্তমানের ৩ সদস্যের পরিবারের ভিত্তি বদলে ৫ সদস্যের পরিবারকে (নির্ভরশীল বাবা-মায়ের খরচ-সহ) মানদণ্ড করা হোক। পাশাপাশি ইন্টারনেট, ডিজিটাল শিক্ষা এবং আধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবার খরচকেও এই নতুন ফর্মুলার অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠেছে। ১৯৫৭ সালের মডেলে মূলত ক্যালোরি এবং ন্যূনতম বাসস্থানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল, যা আজকের ডিজিটাল যুগে একেবারেই সেকেলে।
বেতন ও পেনশনে সম্ভাব্য প্রভাব:
১. ন্যূনতম বেতন: বর্তমান ১৮,০০০ টাকা থেকে বেড়ে বেসিক পে ৩০,০০০ টাকার ওপরে (প্রায় ৬৬% বৃদ্ধি) পৌঁছাতে পারে।
২. পেনশনে ধামাকা: পেনশনভোগীদের জন্য ন্যূনতম পেনশন ৯,০০০ টাকা থেকে লাফিয়ে ২০,৫০০ থেকে ২৫,৭৪০ টাকা হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, লেভেল ৬-এর ২৮,৪৫০ টাকা পেনশন প্রায় ৫৯,০০০ টাকায় পৌঁছাতে পারে।
৩. ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর: সপ্তম বেতন কমিশনে এটি ছিল ২.৫৭। অষ্টম কমিশনের ক্ষেত্রে এটি ১.৮৩ থেকে ২.৮৬-এর মধ্যে থাকার সম্ভাবনা থাকলেও, সংগঠনগুলি ৩.৬৮ গুণের দাবি জানিয়েছে। সব মিলিয়ে মোদী সরকার এই সুপারিশ মেনে নিলে কেন্দ্রীয় কর্মীদের হাতে আসবে বড় অঙ্কের ‘এরিয়ার’ ও বর্ধিত বেতন।