বিজেপিতে ‘গৃহযুদ্ধ’, বহু কেন্দ্র এখনো প্রার্থীহীন, বড় বিপাকে রাজ্য নেতৃত্ব?

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই অস্বস্তি বাড়ল গেরুয়া শিবিরে। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের একাধিক জেলায় বিজেপির অন্দরের ফাটল এখন প্রকাশ্যে। কোথাও ঘোষিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, কোথাও আবার ‘ভূমিপুত্র’ প্রার্থীর দাবিতে পথ অবরোধ—সব মিলিয়ে ভোটের আগে চরম গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে নাজেহাল বিজেপি নেতৃত্ব।

পূর্ব বর্ধমানে ক্ষোভের পাহাড়

পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম, ভাতার ও কালনা—এই তিন কেন্দ্রেই আদি বনাম নব্য লড়াই তুঙ্গে। কালনায় বিক্ষুব্ধ কর্মীরা সরাসরি রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আউশগ্রামে আবার রাজ্য নেতৃত্বের কাছে লিখিত নালিশ জমা পড়েছে। স্থানীয় কর্মীদের অভিযোগ, দলের দুঃসময়ে যারা হাল ধরেছিলেন, সেই পুরনো নেতাদের উপেক্ষা করে ‘পছন্দের মানুষ’দের টিকিট দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, মেমারি, পূর্বস্থলী দক্ষিণ ও কাটোয়ায় এখনও প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেনি দল। ফলে সেখানে অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনাতেও বিদ্রোহ

নদিয়ার চিত্রটাও তথৈবচ। রানাঘাট দক্ষিণ ও উত্তর-পূর্ব কেন্দ্রে প্রার্থী বদলের দাবিতে সরব হয়েছেন কর্মীরা। কৃষ্ণগঞ্জে আবার মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। করিমপুর থেকে পলাশীপাড়া—সব জায়গাতেই দাবি একটাই, বহিরাগত নয়, চাই ‘ভূমিপুত্র’ প্রার্থী।

অন্যদিকে, উত্তর শহরতলির পানিহাটি ও উত্তর দমদমে এখনও প্রার্থী না আসায় কর্মীরা কার্যত দিশেহারা। কোচবিহার দক্ষিণেও একই ছবি। যেখানে তৃণমূল কোমর বেঁধে প্রচার শুরু করে দিয়েছে, সেখানে বিজেপি এখনও প্রার্থী বাছাইয়ের গোলকধাঁধায় আটকে।

অস্বস্তিতে রাজ্য নেতৃত্ব

রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল বিজেপির ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় থাবা বসাতে পারে। আদি কর্মীদের এই ক্ষোভ সামাল দেওয়া এখন রাজ্য নেতৃত্বের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। যোগ্যতার বদলে ঘনিষ্ঠতাকে প্রাধান্য দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা দলের ভাবমূর্তিতেও বড় ধাক্কা দিয়েছে।