হান্দোয়ারায় এনআইএ-র হানা! লাল কেল্লা বিস্ফোরণ কাণ্ডে এবার জালে উপত্যকার নামী ব্যবসায়ী?

জম্মু-কাশ্মীরের হান্দোয়ারা আজ ভোরে এক চাঞ্চল্যকর অভিযানের সাক্ষী থাকল। গত বছরের ১০ নভেম্বর দিল্লির লাল কেল্লায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে এবার উপত্যকার এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দিল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)। গুলুরা এলাকায় ওই ব্যবসায়ীর বাসভবন সকাল থেকেই ঘিরে ফেলেছে এনআইএ-র বিশেষ টিম। সঙ্গে রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। সূত্রের খবর, ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে ‘হোয়াইট-কলার’ সন্ত্রাসবাদী মডিউলের গভীর যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, তল্লাশি চলাকালীন ইতিমধ্যেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং হার্ড ড্রাইভ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গত বছর দীপাবলির প্রাক্কালে দিল্লির লাল কেল্লার কাছে একটি হুন্ডাই আই২০ গাড়িতে হওয়া সেই বিস্ফোরণে ১২-১৫ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আত্মঘাতী হামলাকারী ছিলেন পেশায় ডাক্তার এবং হরিয়ানার আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর উমর উন নবী। সেই ঘটনার পর থেকেই এনআইএ তদন্তে উঠে আসে এক শিক্ষিত ও পেশাদার সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের কথা।
হান্দোয়ারার এই ব্যবসায়ীর নাম সম্ভবত সেই মডিউলের আর্থিক লেনদেন বা বিস্ফোরক সরবরাহের তালিকায় উঠে এসেছে। গত কয়েক মাসে শ্রীনগর, পুলওয়ামা এবং শোপিয়ান থেকে ইতিমধ্যেই ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। তদন্তকারীদের দাবি, এই হামলার ছক সাজানো থেকে শুরু করে গাড়ি জোগাড় এবং অর্থায়ন—সবকিছুর পিছনেই উপত্যকার কিছু ‘সাদা পোশাকের’ ব্যক্তিত্বের হাত রয়েছে। আজকের এই তল্লাশি সেই চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলারই একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। অভিযান এখনও চলছে, এবং এর ফলে আরও বড় কোনও গ্রেফতারির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না ওয়াকিবহাল মহল।