ভবানীপুরে মমতার ‘ভোকাল টনিক’, জয়ের ব্যবধান নিয়ে ফিরহাদ হাকিমের বিরাট চ্যালেঞ্জ!

ভবানীপুর—বাংলার রাজনীতির অলিখিত ভরকেন্দ্র। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সেই ভবানীপুর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস তাদের ঘর গোছানোর কাজ শুরু করে দিল পুরোদমে। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র বলে কথা, তাই বিন্দুমাত্র ঢিলেমি দিতে নারাজ ঘাসফুল শিবির। রবিবারের হাই-ভোল্টেজ কর্মিসভায় নেত্রীর দেওয়া ‘ভোকাল টনিক’ গায়ে মেখেই সোমবার সকাল থেকে কোমর বেঁধে ময়দানে নামলেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।
নিজের পাড়া চেতলার রাখাল দাস আড্ডি রোডে এদিন দেখা গেল এক চেনা ছবি। অনুগামীদের নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ সারলেন মেয়র। কোথাও প্রবীণদের আশীর্বাদ নিলেন, কোথাও আবার সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগের কথা শুনলেন। ফিরহাদের গলায় এদিন আত্মবিশ্বাসের সুর ছিল স্পষ্ট। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরের ঘরের মেয়ে। এই কেন্দ্রের অলিগলি তাঁর চেনা। এবারও তিনি ৬০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতবেন।”
ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি কলকাতা পুরসভার ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪, ৭৭ ও ৮২—এই আটটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। উল্লেখ্য, এই প্রতিটি ওয়ার্ডেই তৃণমূলের কাউন্সিলর রয়েছেন। এই নিশ্ছিদ্র সাংগঠনিক শক্তিকেই এবার হাতিয়ার করতে চাইছেন মমতা। প্রচারের মূল ইস্যু হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে সরকারি প্রকল্পের সাফল্য এবং মমতার ‘ঘরের মেয়ে’ ভাবমূর্তিকে।
ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়া নিয়ে চলা বিতর্কেও এদিন মুখ খোলেন মেয়র। তিনি আশ্বাস দেন যে সোমবারই সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বেরোবে এবং দল প্রত্যেকের পাশে আছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে এই ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াই করেছেন, তাও মনে করিয়ে দেন তিনি। ফিরহাদ বলেন, “আদালতের ওপর আমাদের ভরসা আছে। যদি কারও নাম বাদ থাকে, তবে পরবর্তী আইনি লড়াই বা ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তৃণমূল কংগ্রেস মানুষের সাথে থাকবে।” নির্বাচনের ঢাকে কাঠি পড়ার আগেই ভবানীপুরের এই উত্তাপ বুঝিয়ে দিচ্ছে, আগামী লড়াই হতে চলেছে হাড্ডাহাড্ডি।