“মমতার মুখে বারবার সেই ‘লোডশেডিং’ তত্ত্ব, জেনেনিন ঠিক কী হয়েছিল একুশে?

ক্যালেন্ডারের পাতায় বছরটা ২০২৬। লড়াইয়ের ময়দান এবার নন্দীগ্রাম নয়, বরং খাস কলকাতা— ভবানীপুর। কিন্তু প্রচারের প্রতিটি ছত্রে ঘুরেফিরে আসছে ৫ বছর আগের সেই স্মৃতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম শুভেন্দু অধিকারী— এই হাই-প্রোফাইল দ্বৈরথে আবারও প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই বিতর্কিত ‘লোডশেডিং’।
ঠিক কী ঘটেছিল ২০২১-এর ২ মে?
সেদিন সারা ভারতের নজর ছিল নন্দীগ্রামের দিকে। সকাল থেকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ছিলেন না মমতা বা শুভেন্দু। বিকেলের দিকে খবর ছড়িয়ে পড়ে, প্রায় ১২০০ ভোটে জিতে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু নাটকের তখনও বাকি ছিল। গভীর রাতে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে, ১৯৫৬ ভোটে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, গণনার শেষ পর্যায়ে পরিকল্পিতভাবে লোডশেডিং করে ভোটের ফলে কারচুপি করা হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজও বিশ্বাস করেন, সেদিন তাঁকে ‘চুরি’ করে হারানো হয়েছিল। যদিও বিজেপি ও শুভেন্দু অধিকারী এই দাবিকে বারবার ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
২০২৬-এ কেন ফের লোডশেডিং আতঙ্ক?
রবিবার একটি কর্মীসভায় বক্তব্য রাখার সময় তৃণমূল সুপ্রিমোকে যথেষ্ট সতর্ক দেখিয়েছে। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর কড়া বার্তা, “ভোট শেষ হয়ে গেলে সতর্ক থাকুন। লোডশেডিং করে দিতে পারে। স্ট্রং রুমে কড়া নজর রাখতে হবে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুরে এবার মুখোমুখি লড়াই হলেও মমতা কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারী যখন প্রতিপক্ষ, তখন প্রতিটা পদক্ষেপে সাবধানী ঘাসফুল শিবির।
নন্দীগ্রামের ছায়া ভবানীপুরে
কেন্দ্র বদলালেও মেজাজ বদলায়নি। তৃণমূলের নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার এখন সেই ‘লোডশেডিং তত্ত্ব’। সাধারণ মানুষের মনে এই প্রশ্ন গেঁথে দেওয়ার চেষ্টা চলছে যে, গণতন্ত্রে কারচুপি রুখতে সজাগ থাকা প্রয়োজন। এখন দেখার, এই লোডশেডিং ইস্যু ২০২৬-এর ব্যালট বক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।