“R.G Kar-যেন মৃত্যুপুরী!”-লিফটের পর এবার শৌচালয়ে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক পরিণতি

তিলোত্তমার স্মৃতিবাহী আরজি কর হাসপাতাল কি তবে অভিশপ্ত? লিফটে পিষে মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের এক রোগীর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল হাসপাতাল চত্বর। অভিযোগের আঙুল সেই হাসপাতালের চরম অব্যবস্থা ও পরিকাঠামোর দিকেই।
কী ঘটেছিল সোমবার ভোরে?
জানা গিয়েছে, শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে রবিবার রাতে আরজি করের ট্রমা কেয়ার বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন বিশ্বজিৎ সামন্ত নামে এক প্রৌঢ়। পরিবারের দাবি, রাতে চিকিৎসার পর তিনি কিছুটা সুস্থ বোধ করছিলেন। কিন্তু সোমবার ভোরে শৌচালয়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়লে শুরু হয় বিপত্তি। অভিযোগ, সেই সময় কোনও স্ট্রেচার মেলেনি। হাসপাতালের কর্মীরা সাফ জানিয়ে দেন, হয় হেঁটে বাইরে যেতে হবে, নয়তো দোতলায়।
অব্যবস্থার চরম সীমা! মৃতের ছেলে বিশালের অভিযোগ, “বাবা অসুস্থ ছিলেন, শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। বারবার স্ট্রেচার চাইলেও কেউ দেয়নি। বাধ্য হয়ে হেঁটে শৌচালয়ে যেতে গিয়েই লুটিয়ে পড়েন বাবা। ডাক্তাররা দেখে বললেন সব শেষ!” হাসপাতালের একটি সূত্রের খবর, নীচের তলার শৌচালয়গুলি নোংরা ও ব্যবহারের অযোগ্য থাকায় রোগীকে দূরে যেতে বলা হয়েছিল। সেই ধকল সইতে না পেরেই সম্ভবত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।
লিফটকাণ্ডের ছায়া কাটছে না আরজি করে
উল্লেখ্য, মাত্র ২ দিন আগেই এই একই ট্রমা কেয়ার বিল্ডিংয়ের লিফটে আটকে মৃত্যু হয়েছিল দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনিও তাঁর ৩ বছরের ছেলের চিকিৎসার জন্য এসে শৌচালয়ে যাওয়ার পথেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন। পর পর দু’টি মৃত্যুতে হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারির অভাব নিয়ে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ।
টালা থানার পুলিশ আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে এবং দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নীরবতা ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে রোগীর পরিজনদের মধ্যে।