‘দিদি’ হতে চাইছেন মীনাক্ষী, ‘দিদিকে বলো’-র স্টাইলে শুনছেন জনতার অভিযোগ

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরপাড়া কেন্দ্রে বামেদের তুরুপের তাস মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তবে প্রার্থীপদ ঘোষণার পর থেকেই প্রচারের ময়দানে ছক্কা হাঁকাচ্ছেন তিনি। এবার ভোটারদের মন জয় করতে একেবারে নতুন ও আধুনিক এক কৌশল নিয়ে হাজির হলেন মীনাক্ষী। তাঁর এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তোলপাড় রাজনৈতিক মহল।

পকেটে এক বিশেষ কার্ড! ঠিক কী করছেন মীনাক্ষী?

প্রচার মানেই জনসভা বা মিছিল নয়, মীনাক্ষী এবার পৌঁছে যাচ্ছেন মানুষের ড্রয়িংরুমে। আর সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন একটি বিশেষ কার্ড। এই কার্ডে দেওয়া রয়েছে একটি হেল্পলাইন নম্বর। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকার মানুষ তাঁদের অভাব-অভিযোগ, রাস্তাঘাটের সমস্যা, পানীয় জল থেকে শুরু করে বেকারত্ব—সবকিছুই সরাসরি এই নম্বরে ফোন করে জানাতে পারবেন।

মীনাক্ষীর কথায়, “আমরা মানুষের কথা শুনতে চাই। স্কুল বন্ধ থাকা বা জল জমার মতো সমস্যাগুলো স্থানীয়রাই সবথেকে ভালো জানেন। সরাসরি যোগাযোগ থাকলে কাজ করতে সুবিধা হয়।”

তৃণমূলের ‘কপি’ নাকি নতুন ভাবনা?

মীনাক্ষীর এই ‘ফোন কল’ স্ট্র্যাটেজি সামনে আসতেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ একে তৃণমূলের জনপ্রিয় কর্মসূচি ‘দিদিকে বলো’-র সঙ্গে তুলনা করছেন। এই নিয়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী কটাক্ষ করে বলেন, “দিদিকে বলো বললেই দিদি হওয়া যায় না। নকল করলেই হবে না, মানুষের সেই বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে হয়।”

পাল্টা জবাবে মীনাক্ষী জানিয়েছেন, এটি কোনো অনুকরণ নয়, বরং মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার। ভোটের পরেও এই নম্বর সচল থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

ভোটের বাজারে টেক্কা দিচ্ছে ‘বামেদের ডিজিটাল ডায়েরি’

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরপাড়ায় মীনাক্ষীর এই হাই-টেক ও জনসংযোগমুখী প্রচার বিরোধীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ সরাসরি নথিভুক্ত করার এই উদ্যোগ বামেদের প্রচারে অন্য মাত্রা যোগ করেছে।