BJP-এলে কি বন্ধ হবে মাছ খাওয়া? মাছ হাতে দাঁড়িয়েই আসল সত্যি ফাঁস করলেন প্রার্থী!

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর সেই প্রতিটি পার্বণের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হলো ‘মাছ-ভাত’। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আবহে সেই মাছ নিয়েই এবার শুরু হলো তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা। রবিবার ছুটির সকালে বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ডাঃ সারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে দেখা গেল এক্কেবারে ভিন্ন মেজাজে। সল্টলেকের আইএ (IA) ব্লকের বাজারে একটি বিশালাকার কাতলা মাছ হাতে নিয়ে প্রচারে নামলেন তিনি।

কেন এই অভিনব ‘মৎস্য-বিলাস’? ভোট চাইতে গিয়ে প্রার্থীর এই রূপ দেখে থমকে যান বাজারে আসা আমজনতা। কিন্তু এর নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। ডাক্তারবাবুর অভিযোগ, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ভোটারদের মধ্যে ভয় ধরাচ্ছে যে—বিজেপি ক্ষমতায় এলে নাকি বাঙালির প্রিয় মাছ-ভাত খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং রাজ্যকে পুরোপুরি ‘নিরামিষ’ বানানো হবে।

তৃণমূলকে পাল্টা তোপ বিরোধীদের এই অপপ্রচারের জবাব দিতেই এদিন মাছ হাতে ময়দানে নামেন সারদ্বতবাবু। তিনি সাফ জানান:

  • বাঙালির সংস্কৃতি আর মাছ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিয়ে থেকে শুভ কাজ—মাছ ছাড়া আমাদের চলে না।

  • শাসকদলের আমলে মাছের দাম এখন আকাশছোঁয়া, সাধারণ মানুষ এক টুকরো মাছ কিনতেই হিমশিম খাচ্ছে।

  • বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ নিষিদ্ধ হওয়া তো দূরস্ত, বরং মানুষ যাতে সুলভে মাছ কিনতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হবে।

“দ্বিগুণ মাছ খাবে মানুষ” ক্রেতা ও বিক্রেতাদের আশ্বস্ত করে পদ্ম শিবিরের এই প্রার্থী দাবি করেন, “বিজেপি সরকার গড়লে মানুষ এখনকার চেয়ে দ্বিগুণ মাছ খাবে!” বিধাননগরের অভিজাত এলাকায় প্রার্থীর এই ‘মৎস্য-কূটনীতি’ নিয়ে এখন চায়ের টেবিলে জোর চর্চা। একদিকে উন্নয়ন আর অন্যদিকে বাঙালির রসনা—এই দুই অস্ত্রকে হাতিয়ার করেই বিধাননগরের বৈতরণী পার হতে চাইছেন ডাক্তারবাবু।