চোর ধরতেই কি পুলিশ পাঠালেন অর্জুন? সোমনাথ শ্যামের আক্রমণ পাল্টাতে ‘১৯৭০-এর ফাইল’ খুললেন ব্যারাকপুরের বাহুবলী

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ এখন ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের অলিগলিতে। জগদ্দল ও নোয়াপাড়া—এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের সোমনাথ শ্যাম এবং বিজেপির অর্জুন সিংয়ের মধ্যে শুরু হয়েছে চরম ‘কাদা ছোড়াছুড়ি’। একে অপরকে সরাসরি ‘চোর’ বলে সম্বোধন করে রাজনৈতিক শালীনতার সীমা ছাড়িয়েছেন দুই হেভিওয়েট নেতা। অর্জুন সিং এবার নোয়াপাড়া থেকে বিজেপির টিকিটে লড়ছেন, আর তাতেই সোমনাথের খোঁচা— “ভয়ে জগদ্দল থেকে পালিয়ে গিয়েছেন অর্জুন।”
অর্জুনের পাল্টা তোপ: ‘চোর ধরতে পুলিশ পাঠিয়েছি’ সোমনাথ শ্যামের আক্রমণের জবাবে বিস্ফোরক অর্জুন সিং। জগদ্দলের বিধায়ককে ‘লোহা চোর’ আখ্যা দিয়ে অর্জুন বলেন, “ও তো পারমানেন্ট চোর। কারখানা বেচে দেওয়া থেকে শুরু করে জমি কেনা-বেচা, সব জায়গা থেকেই ও টাকা নেয়। জগদ্দলের যেকোনো রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করুন লোহা চোর কে, সবাই একবাক্যে ওর নাম বলবে।” সোমনাথের বিরুদ্ধে বিজেপি একজন ‘জাঁদরেল’ পুলিশ অফিসারকে প্রার্থী করেছে উল্লেখ করে অর্জুন বলেন, “চোর ধরার জন্য তো পুলিশই লাগবে, তাই দল পুলিশ অফিসার পাঠিয়েছে। এবার বুঝবে কত ধানে কত চাল!”
সোমনাথের হুঙ্কার: ‘১৯৭০ সাল থেকে হিসেব দেব’ পাল্টা দিতে ছাড়েননি সোমনাথ শ্যামও। অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে কো-অপারেটিভ কেলেঙ্কারি, ভাটপাড়া পুরসভার দুর্নীতি এবং জুটমিল ধ্বংসের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “চোরের মায়ের বড় গলা। ওনার যদি সৎ সাহস থাকে তবে আমার সঙ্গে বিতর্কে বসুন। আমি প্রমাণ করে দেব ১৯৭০ সাল থেকে উনি আর ওনার পরিবার কী কী চুরি করেছেন।” সোমনাথের দাবি, অর্জুন সিং জগদ্দলে প্রার্থী হওয়ার সাহস হারানোতেই প্রমাণ হয়ে গিয়েছে কার পায়ের তলায় মাটি নেই।
ব্যারাকপুরের এই ‘পলিটিক্যাল থ্রিলার’ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার। ভোট যত এগোবে, এই ব্যক্তিগত আক্রমণ যে আরও বাড়বে, তার ইঙ্গিত স্পষ্ট।