মোদী-শাহকে তোপ দাগতেই কি ইডির কোপ? প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনারের ইস্তফা নিয়ে সঞ্জয় রাউতের বিস্ফোরক দাবি

ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের ইতিহাসে অশোক লাভাসার পদত্যাগ ছিল এক বড়সড় ধোঁয়াশা। ২০২৫ সালে জেলবন্দি অবস্থায় লেখা শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ সঞ্জয় রাউতের বই ‘Unlikely Paradise’-এর ইংরেজি সংস্করণ আসতেই সেই পুরনো বিতর্ক নতুন করে দানা বাঁধল। রাউতের দাবি, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের বিরুদ্ধে আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে অনড় থাকাতেই ‘শাস্তি’ পেতে হয়েছিল লাভাসাকে। কেন্দ্রীয় এজেন্সির ক্রমাগত চাপে শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

ক্লিনচিট বিতর্কে লাভাসার ‘বিদ্রোহ’ ২০১৯-এর নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠে। নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চে লাভাসা ছিলেন একমাত্র সদস্য, যিনি মোদী-শাহকে ক্লিনচিট দেওয়ার বিপক্ষে মত দিয়েছিলেন। সঞ্জয় রাউতের দাবি, এই ‘সাহস’ দেখানোর ঠিক পরেই লাভাসা ও তাঁর পরিবারের ওপর কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির নজর পড়ে। আয়কর দপ্তর থেকে শুরু করে ইডি— একের পর এক নোটিস পাঠানো হয় তাঁর স্ত্রীকে। লাভাসা অভিযোগ করেছিলেন, কমিশনে তাঁর ভিন্নমতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

পদত্যাগ না কি অপসারণের ছক? ২০২১ সালে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হওয়ার দৌড়ে সবার আগে ছিলেন অশোক লাভাসা। কিন্তু তার আগেই ২০২০-র অগাস্টে তিনি নাটকীয়ভাবে ইস্তফা দেন। সঞ্জয় রাউত তাঁর বইয়ে লিখেছেন, “চুপ থাকার জন্য প্রবল চাপ দেওয়া হয়েছিল লাভাসাকে। কিন্তু তিনি আদর্শ বিসর্জন দেননি। ফলস্বরূপ, তাঁর পরিবারকে এজেন্সির গেরোয় ফাঁসানো হয়।” এই চাপের মুখেই তিনি সরে দাঁড়িয়ে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (ADB)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে যোগ দেন।

বর্তমান কমিশনকেও নিশানা কেবল অতীত নয়, সঞ্জয় রাউতের বইয়ে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। লাভাসা নিজেও সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের কমিটি থেকে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়া এবং কমিশনারদের আইনি রক্ষাকবচ দেওয়ার কড়া সমালোচনা করেছেন। রাউতের এই নতুন দাবি কি লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির অস্বস্তি বাড়াবে? উত্তর দেবে সময়।