যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে দেশে জ্বালানি সঙ্কট! জরুরি তলব মোদীর, আমজনতার জন্য কী সিদ্ধান্ত?

পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের কালো মেঘ এবার সরাসরি প্রভাব ফেলছে ভারতের হেঁশেলে। ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে তীব্র হয়েছে জ্বালানি সঙ্কট। এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে রবিবার দেশের শীর্ষ মন্ত্রীদের নিয়ে এক জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মূল লক্ষ্য একটাই— যুদ্ধ চললেও যেন ভারতে পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে।
মোদীর ‘ওয়ার রুম’ বৈঠক এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এছাড়াও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালও বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে রিপোর্ট দেন। সূত্রের খবর, অপরিশোধিত তেল ও সারের আমদানিতে যাতে কোনওভাবেই টান না পড়ে, তার জন্য বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছে কেন্দ্র।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে টানাপড়েন বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই পথ উন্মুক্ত না করলে ইরানকে ধ্বংস করা হবে। পালটা জবাবে তেহরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ নয়, তবে আমেরিকা, ইজরায়েল এবং তাদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলির জন্য এই পথ নিষিদ্ধ। ভারত যেহেতু উভয়ের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রাখে, তাই এই কূটনৈতিক জটিলতায় ভারতের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরবরাহ নিশ্চিত করাই লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সঙ্কটের সৃষ্টি করেছে। এদিনের বৈঠকে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, লজিস্টিক ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে হবে যাতে সাধারণ মানুষের কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি পৌঁছায়। ইতিমধ্যে সৌদি আরব, ইউএই এবং ইরান-সহ একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মোদী। ভারতের কৌশলগত তেলের ভাণ্ডার (Strategic Oil Reserves) ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে খবর। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে যাতে আমজনতার পকেটে টান না পড়ে।