ধনকড়ের ইস্তফার পিছনে ইডি-র চাপ? সঞ্জয় রাউতের ‘আনলাইকলি প্যারাডাইস’ বইয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য!

ভারতীয় রাজনীতিতে এক বিশাল অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়ে দিলেন শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ সঞ্জয় রাউত। তাঁর সদ্য প্রকাশিত বই ‘Unlikely Paradise’-এর ইংরেজি সংস্করণে এমন কিছু দাবি করা হয়েছে, যা নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। সোমবার বইটির ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশিত হওয়ার আগেই এর বিষয়বস্তু নিয়ে দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবিটি করা হয়েছে প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়কে নিয়ে। রাউতের দাবি, ধনকড় কেন্দ্রের কথামতো না চলে স্বাধীন আচরণ করছিলেন, যা মোদী সরকারের পছন্দ হয়নি। এর পরেই ইডি (ED)-কে দিয়ে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। অভিযোগ তোলা হয় যে, জয়পুরের বাড়ি বিক্রির টাকা ধনকড় দম্পতি বিদেশে পাঠিয়েছেন। রাউতের দাবি, এই ইডি ফাইলের ভয় দেখিয়েই ধনকড়কে রাতারাতি পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। একইভাবে প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসাকেও ইডি-র ভয় দেখিয়ে সরানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।

তবে বইটির সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অতীত নিয়ে করা মন্তব্য। রাউতের দাবি, গুজরাট দাঙ্গার পর মোদীকে গ্রেফতার করার তোড়জোড় চলেছিল ইউপিএ আমলে। কিন্তু শরদ পাওয়ার মন্ত্রিসভার বৈঠকে মোদীর গ্রেফতারির বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে, অমিত শাহ যখন মামলার জালে জড়িয়ে বিপাকে পড়েছিলেন, তখন তিনি নাকি কালো-হলুদ ট্যাক্সিতে চড়ে বালাসাহেব ঠাকরের আশীর্বাদ নিতে এসেছিলেন। রাউতের বয়ান অনুযায়ী, বালাসাহেবের একটি ফোনই অমিত শাহের রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। এমনকি শাহের জামিনের পিছনেও পাওয়ার ও বালাসাহেবের হাত ছিল বলে দাবি করেছেন রাউত। বইটির এই বিস্ফোরক তথ্যগুলি আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে বড়সড় বিতর্কের জন্ম দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।