খোল-করতাল বনাম খাকি উর্দি! বারাকপুরে রাজের ‘মিউজিক্যাল’ প্রচার, নোয়াপাড়ায় অর্জুনের হুঙ্কার

ভোটের বাদ্যি বেজে গিয়েছে শিল্পাঞ্চল বারাকপুরে। রবিবার ছুটির সকালে গ্ল্যামার আর রাজনীতির এক অদ্ভুত মিশেল দেখল তিলোত্তমার পড়শি এই জনপদ। একদিকে বারাকপুরের বিদায়ী বিধায়ক তথা তারকা প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী খোল-করতাল আর ঢাকের তালে মেতে উঠলেন প্রচারে, অন্যদিকে পাশের কেন্দ্র নোয়াপাড়ায় কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বেষ্টনীতে মুড়ে জনসংযোগ সারলেন বিজেপি হেভিওয়েট অর্জুন সিং। দুই প্রার্থীর আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে রবিবাসরীয় প্রচার জমে ক্ষীর।

বারাকপুর পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে এদিন প্রচার শুরু করেন রাজ চক্রবর্তী। পরিচালক-বিধায়কের মেজাজ ছিল একেবারে ফুরফুরে। ঢাকের বাদ্যি আর সংকীর্তনের সুরকে সঙ্গী করে অলিগলি ঘুরলেন তিনি। রাজের স্পষ্ট কথা, “২০২৬-এর ভোট হবে উন্নয়নের নিরিখে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার যে রোডম্যাপ দিয়েছেন, তা নিয়েই মানুষের দুয়ারে যাচ্ছি।” গতবার মাত্র ৯ হাজার ভোটে জিতলেও এবার মার্জিন বাড়ানোই লক্ষ্য রাজুর। উল্টোদিকে বিজেপির কৌস্তভ বাগচী এবং বামেদের সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়ের চ্যালেঞ্জকে আমল দিতে নারাজ তিনি। গেরুয়া শিবিরের ‘পরিবর্তন যাত্রা’কে কটাক্ষ করে রাজ বলেন, “আগে রান্নার গ্যাস আর পেট্রোলের দাম কমিয়ে দেশের পরিবর্তন করুক বিজেপি, তারপর বাংলা নিয়ে ভাববে।”

অন্যদিকে, নোয়াপাড়া কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংয়ের প্রচার ছিল বেশ গম্ভীর। হাতেগোনা কর্মী আর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ইছাপুর আনন্দমঠ এলাকায় বাড়ি বাড়ি ঘুরলেন তিনি। তবে প্রচার শান্ত হলেও অর্জুনের কথা ছিল অগ্নিগর্ভ। তৃণমূলের টিকিট না পেয়ে রাজনীতির সন্ন্যাস নেওয়া বিদায়ী বিধায়ক মঞ্জু বসুর হয়ে সওয়াল করলেন অর্জুন। তাঁর দাবি, “মঞ্জু বসুর সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করেছে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্যায় করেছেন।” অর্জুনের দাবি, তিনি ৮০ শতাংশ লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন এবং নোয়াপাড়ায় এবার নিশ্চিত পালাবদল ঘটবে। শিল্পাঞ্চলের এই হেভিওয়েট লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।