শূন্য ঘুচবে এবার? ২০২৬-এর মহাযুদ্ধে আলিমুদ্দিনের বাজি এই ‘পাওয়ারফুল ১০’ আসন!

টানা ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকা যে দল গত বিধানসভা নির্বাচনে একটিও আসন পায়নি, ২০২৬-এর মহাযুদ্ধে সেই সিপিএম এবার ‘ডু অর ডাই’ মেজাজে। শূন্যতা ঝেড়ে ফেলে বিধানসভায় খাতা খুলতে মরিয়া আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। আর এই লক্ষ্যেই রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১০টি বিশেষ আসনের ওপর সবচেয়ে বেশি ভরসা রাখছেন বাম নেতৃত্ব। সংগঠনের শক্তি এবং সাম্প্রতিক আন্দোলনের আবেগকে হাতিয়ার করে এই ১০টি আসনেই বাজি ধরছে লাল শিবির।

বামেদের নজরে যে ১০টি হাই-ভোল্টেজ আসন:

১. রানিনগর (মুর্শিদাবাদ): ২০২৪ লোকসভায় এই একটি মাত্র বিধানসভায় লিড পেয়েছিলেন মহম্মদ সেলিম। এবার এখানে সিপিএমের বাজি জামাল হোসেন। ২. যাদবপুর: একসময়ের ‘লাল দুর্গ’। গতবারের দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখে এবার বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে দিয়ে আসনটি পুনরুদ্ধারে আশাবাদী বামেরা। ৩. কামারহাটি: পোড়খাওয়া নেতা মানস মুখোপাধ্যায়কে ফিরিয়ে এনে মদন মিত্রের গড়ে অঘটনের স্বপ্ন দেখছে সিপিএম। ৪. উত্তর দমদম: চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে দীপ্সিতা ধরকে প্রার্থী করে তারুণ্যের জোরে বাজিমাত করতে চায় দল। ৫. টালিগঞ্জ: ১৫ বছর পর ফের ‘বিশ্বাস দ্বৈরথ’। অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে লড়ছেন অধ্যাপক পার্থপ্রতিম বিশ্বাস। ৬. উত্তরপাড়া: সিপিএমের পোস্টার গার্ল মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের লড়াই এখানে তৃণমূলের শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। ৭. পানিহাটি: আরজি কর আবহে ‘অভয়ার কেন্দ্র’ পানিহাটিতে কলতান দাশগুপ্তর জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বাম শিবির। ৮. বেহালা পশ্চিম: পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতিতে প্রাক্তন কাউন্সিলর নীহার ভক্তকে দিয়ে পরিবর্তনের হাওয়া বইয়ে দিতে চায় সিপিএম। ৯. কালীগঞ্জ: বোমায় মৃত ৯ বছরের তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিনকে প্রার্থী করে এক লড়াকু আবেগকে হাতিয়ার করেছে দল। ১০. নয়াগ্রাম: প্রাক্তন সাংসদ পুলিন বিহারী বাস্কের ব্যক্তিগত স্বচ্ছ ভাবমূর্তিতে ভর করে জঙ্গলমহলে খাতা খুলতে চায় বামেরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ১০টি আসনে বামেদের ভোট শতাংশ বাড়লে শুধু সিপিএম নয়, রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যেতে পারে। এখন দেখার, ৪ মে ইভিএম খোলার পর আলিমুদ্দিনের এই আশা বাস্তবে রূপ পায় কি না।