এক মাস পরেই ভোট! দেড় ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ব্লু-প্রিন্ট চূড়ান্ত, বাংলায় কি নজিরবিহীন বাহিনী মোতায়েন?

২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের ঠিক এক মাস আগে প্রস্তুতি তুঙ্গে। রবিবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরে আয়োজিত এক মেগা বৈঠকে চূড়ান্ত হল কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের কৌশল। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল, স্পেশাল অবজার্ভার এন কে মিশ্র এবং সিআরপিএফ-এর আইজি-সহ শীর্ষ আধিকারিকরা।

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মাত্র দুই দফায় ভোট সম্পন্ন করা। তাই বাহিনী ব্যবহারের পদ্ধতিতে বড়সড় বদল আনতে চলেছে কমিশন। জয়েন্ট ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির এই বৈঠকে সিআরপিএফ আইজি এবং স্টেট ফোর্স কো-অর্ডিনেটর শলভ মাথুর, স্টেট-সিএপিএফ কো-অর্ডিনেটর গৌরব শর্মার মতো দুঁদে আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। কোথায় কত বাহিনী থাকবে এবং স্পর্শকাতর বুথগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা ঠিক কী হবে—তার একটি নীল নকশা তৈরি করেছে এই কমিটি।

ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই ইতিপূর্বে রাজ্য পুলিশে ব্যাপক রদবদল করেছে নির্বাচন কমিশন। দক্ষিণবঙ্গের এডিজি এবং আইজিপি হিসেবে ডঃ রাজেশ কুমার সিংকে নিয়োগের পাশাপাশি ১২টি পুলিশ জেলার এসপি এবং কলকাতার ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়-সহ মোট ১৯ জন আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনিক রদবদলের পর এখন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঢাল করে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। ৪ মে ফলপ্রকাশের আগে এই কড়া নিরাপত্তা বলয় ভোটারদের কতটা আশ্বস্ত করতে পারে, সেটাই এখন দেখার।