ভোটের আগেই কি তৃণমূলের হাত থেকে ক্ষমতা কাড়ছে কমিশন? আদালতের দ্বারস্থ হয়ে বিস্ফোরক সাংসদ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার সাথে সাথেই শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক ও আইনি সংঘাত। এবার নির্বাচন কমিশনের (ECI) বিরুদ্ধে সরাসরি ‘খামখেয়ালিপনা’ এবং ‘অগণতান্ত্রিক’ আচরণের অভিযোগ তুলে সরব হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ তথা প্রখ্যাত আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আমলাদের গণ-বদলি এবং ভোটার তালিকায় রদবদল নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানান যে, নির্বাচন কমিশন যে পদ্ধতিতে আমলাদের বদলি করছে, তা সংবিধানের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত। তাঁর দাবি, “নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ খামখেয়ালিভাবে কাজ করছে। আমলাদের ইচ্ছামতো সরিয়ে দিয়ে আসলে সাধারণ মানুষের ভোট দেওয়ার মৌলিক অধিকারকে খর্ব করা হচ্ছে। এটা এক প্রকার ঘুরপথে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করার সমান।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করবেন এবং আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন।

তৃণমূলের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়া। দলের দাবি, এই প্রক্রিয়ার আড়ালে অনেক বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। গত শনিবার খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইদের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একই সুর চড়িয়েছিলেন। মমতা অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট কিছু জনগোষ্ঠীকে নিশানা করে তাঁদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম মুছে ফেলার চক্রান্ত করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, আসন্ন ২৩ ও ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে দুই দফায় ভোট গ্রহণ হতে চলেছে। ৪ মে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ২০২১ সালের তিক্ত লড়াইয়ের স্মৃতি উস্কে দিয়ে ভবানীপুর কেন্দ্রে এবারও মুখোমুখি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের এক মাস আগে কমিশনের পদক্ষেপ বনাম রাজ্যের শাসকদলের এই আইনি লড়াই বঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।