খালি বেড, খাঁ খাঁ করছে করিডোর! পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে কি কোপ পড়ল ভারতের বিলিয়ন ডলারের মেডিক্যাল ট্যুরিজমে?

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন ভারতের অর্থনীতিতে বহুমুখী প্রভাব ফেলছে। জ্বালানি সংকটের পর এবার বড়সড় ধাক্কা খেল ভারতের ‘মেডিক্যাল ভ্যালু ট্রাভেল’ বা চিকিৎসা পর্যটন খাত। ওমান, সৌদি আরব, ইরান, ইরাক ও ইয়েমেনের মতো দেশগুলো থেকে ভারতে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীর সংখ্যা একধাক্কায় ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছে বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে, বিদেশি রোগীদের জন্য সংরক্ষিত বেডগুলো এখন কার্যত শূন্য পড়ে রয়েছে।

পরিসংখ্যানের আয়নায় বড় ক্ষতি FICCI-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালে এই খাতের আয় ছিল ৬.৫ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৬ সালের মধ্যে ১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই সাফল্যে জল ঢালতে পারে। ২০২৪ সালে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা পর্যটকদের প্রায় ১৮ শতাংশই আসতেন চিকিৎসার উদ্দেশ্যে। গত বছরগুলিতে বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ ৪.৮২ লক্ষ রোগী এলেও, মধ্যপ্রাচ্যের মিশর, ইরাক ও জর্ডান ছিল ভারতের অন্যতম বড় বাজার। বর্তমান অস্থিরতায় সেই প্রবাহ থমকে গিয়েছে।

ভারত কি তার অবস্থান হারাবে? বিশ্বের ৪৬টি দেশের মধ্যে মেডিক্যাল ট্যুরিজম গন্তব্য হিসেবে ভারতের স্থান দশম। কিন্তু ২০২৫ সালের তথ্য বলছে, বিদেশি রোগীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪.৫০ লক্ষের কাছাকাছি। যেখানে ২০২৪ সালেও এই সংখ্যা ছিল ৬.৪৪ লক্ষ। হাসপাতালের আয় কমলে তার প্রভাব সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডারেও পড়বে। এখন দেখার, যুদ্ধ থামলে ভারত কি আবারও মধ্যপ্রাচ্যের রোগীদের প্রিয় গন্তব্য হিসেবে ফিরে আসতে পারবে, নাকি এই বাজার অন্য কোনো দেশের দখলে চলে যাবে।