৪৮ ঘণ্টার চরমপত্র! ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি—’হরমুজ না খুললে গুঁড়িয়ে দেব ইরানের পাওয়ার গ্রিড!’

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সরাসরি ৪৮ ঘণ্টার ডেডলাইন দিয়েছেন। ট্রাম্পের সাফ কথা, এই সময়ের মধ্যে যদি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ সম্পূর্ণরূপে খুলে দেওয়া না হয়, তবে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেবে মার্কিন সেনা। রবিবার ভোরে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এই বিস্ফোরক পোস্ট করেন তিনি।

পরস্পরবিরোধী বার্তায় বিভ্রান্ত বিশ্ব মজার বিষয় হলো, ট্রাম্পের এই হুমকির ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি যুদ্ধ গুটিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। একদিকে তিনি বলছেন ইরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে আমেরিকা পঙ্গু করে দিয়েছে এবং লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছে, আবার অন্যদিকে নতুন করে সেনা পাঠানোর এবং ইরানের পাওয়ার গ্রিড উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। ট্রাম্পের এই দ্বিচারিতা আন্তর্জাতিক মহলে ও কূটনৈতিক স্তরে তীব্র বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।

তেলের বাজারে অস্থিরতা ও কৌশলী চাল বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে এসে বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন টালমাটাল, তখন ওয়াশিংটন কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইরানের তেলের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি মরিয়া চেষ্টা। তবে ট্রাম্পের সমালোচকদের দাবি, ইরানকে লক্ষ্য করে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের পিছনে কোনো দীর্ঘমেয়াদী বা স্পষ্ট কৌশল নেই। একদিকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার আর অন্যদিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চিত।