দিলীপ-জায়ার বিদ্রোহ! টিকিট না পেয়ে সল্টলেকের সদর দপ্তরে রিঙ্কু মজুমদার, কী বললেন দিলীপ ঘোষ?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই বঙ্গ বিজেপির অন্দরে চাপা ক্ষোভ এবার প্রকাশ্যে। আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার। নিউটাউন-রাজারহাট কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে বায়োডেটা জমা দিলেও, তালিকায় নিজের নাম না দেখে সরাসরি সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে হাজির হন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা।

‘দল যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটাই মান্য’ রবিবার প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে এই প্রসঙ্গে মুখ খোলেন দিলীপ ঘোষ। রিঙ্কু মজুমদারের টিকিট না পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “হাজার হাজার কর্মী আবেদন করেছেন, উনিও করেছেন। উনি আমার আগে থেকে দল করছেন। তবে দল যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটাই মানা হয়েছে।” দিলীপবাবুর এই মন্তব্যে একদিকে যেমন স্ত্রীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রতি সম্মান ঝরে পড়েছে, তেমনই দলীয় শৃঙ্খলার প্রতি দায়বদ্ধতাও ফুটে উঠেছে। তবে রিঙ্কু দেবীর ক্ষোভ যে সহজে কমছে না, তা তাঁর দলের সদর দপ্তরে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার ঘটনাতেই স্পষ্ট।

একাধিক ইস্যুতে তৃণমূলকে তোপ টিকিট বিতর্ক ছাড়াও এদিন আরজি কর হাসপাতালের লিফট বিভ্রাটে যুবকের মৃত্যু এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেড রোডের সভা নিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান দিলীপ ঘোষ। তিনি অভিযোগ করেন, আরজি করের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে তৃণমূল। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মীয় মঞ্চ থেকেও রাজনীতি করেন।” নীতিন নবীনের কলকাতা সফরকে রুটিন প্রক্রিয়া বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, শীঘ্রই তিনি পূর্ণদমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন। তবে রিঙ্কু মজুমদারের এই ‘বিদ্রোহ’ ভোটের আগে বিজেপির অস্বস্তি বাড়াবে কি না, সেটাই এখন দেখার।